shono
Advertisement
Chabahar port

দিল্লির স্বপ্নের চাবাহারে পরপর মার্কিন বোমা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে রক্তাক্ত ভারতের 'চিন স্ট্র্যাটেজি'!

দীর্ঘ বছর ধরে ইরানের চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ করে এসেছে ভারত। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার এই বন্দরে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে আমেরিকা। সোশাল মিডিয়ায় এই হামলার ভিডিও সামনে এসেছে।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 04:18 PM Jul 17, 2026Updated: 04:19 PM Jul 17, 2026

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি ভারতে। শান্তিচুক্তি ভঙ্গের পর ইরানের সেতু-রেল স্টেশন-বিমানবন্দরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে আমেরিকা। হামলা হয়েছে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরেও। দীর্ঘ বছর ধরে ইরানের এই বন্দরে বিনিয়োগ করে এসেছে ভারত। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার এই বন্দরে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে আমেরিকা। সোশাল মিডিয়ায় এই হামলার ভিডিও সামনে এসেছে। এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে ভারতের জন্য উদ্বেগের। কারণ, চিনকে টক্কর দিতে এই বন্দরই ভারতের কাছে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির প্রবেশপথ।

Advertisement

চাবাহার বন্দরে হামলার একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ। যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন হামলায় বন্দরের একটি পর্যবেক্ষন টাওয়ার ভেঙে পড়ছে। পাশাপাশি এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ধোঁয়া ও ধুলোর মেঘের মধ্যে টাওয়ারের মতো একটি কাঠামো ধসে পড়ছে। একাধিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এটি চাবাহার বন্দরের অংশবিশেষ। ইরানের সংবাদমাধ্যমের তরফেও ওই বন্দরে টানা তৃতীয় দফায় হামলার কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। যদিও ধসে যাওয়া ওই টাওয়ারটি চাবাহার বন্দরের কি না তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

চাবাহার বন্দরে হামলার একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ। যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্কিন হামলায় বন্দরের একটি পর্যবেক্ষন টাওয়ার ভেঙে পড়ছে।

তবে চাবাহারে হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন দিল্লি। কারণ, চাবাহার শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, এই বন্দর কৌশলগত দিক থেকে ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালে ভারত-ইরান-আফগানিস্তান এই তিন দেশ চাবাহার নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। পাকিস্তানের জলসীমার খুব কাছে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় ভারত। বিনিময়ে মেলে চাবাহার বন্দর ব্যবহারের অধিকার। এরপরই চাবাহার প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে ইসলামাবাদ। অভিযোগ করে, পাকিস্তানের মাটিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে আফগানিস্তানকে ব্যবহার করার লক্ষ্যেই ভারত এই বন্দর তৈরি করছে। চাবাহার নিয়ে উদ্বিগ্ন চিনও।

চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের (সিপিইসি) অঙ্গ হিসাবে আরব সাগরের তীরে পাকিস্তানের গদরে একটি বন্দর তৈরি করেছে চিন। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সহজ যোগাযোগের স্বার্থে পাকিস্তানের মাটিতে চিনা উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই বন্দরের উপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে নির্ভর করতে হবে বলে আশা করেছিল বেজিং। কিন্তু গদর থেকে জলপথে ২০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত চাবাহারে ভারত যে পালটা বন্দর তৈরি করবে, তা চিন বা পাকিস্তান কেউই আশা করেনি। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার না করেই আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক জোরদার করতেই ইরানের চাবাহারে সমুদ্রবন্দর গড়ে তুলেছিল ভারত। দিয়েছিল মোট ৫০ কোটি ডলার।

মার্কিন হামলার ফলে যদি চাবাহারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তাহলে ভারতের বহু বছরের বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা ধাক্কা খাবে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের বিকল্প বাণিজ্য করিডরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চাবাহার দুর্বল হলে সবচেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে চিন। কারণ, তখন পাকিস্তানের গদর বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে বেজিংয়ের হাত আরও শক্ত হবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement