মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু (Lindsey Graham's Death) ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্যের কুয়াশা। ভারত বিদ্বেষের হাওয়া তুলে ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া 'মাগা' নেতা সদ্যই ইউক্রেন গিয়েছিলেন। সেখানে রুশ তেল ও গ্যাসে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সওয়াল করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর দেশে ফিরে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে 'ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' দানা বাঁধতে শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি, তবু অনেকেই দাবি করছেন এই মৃত্যু অস্বাভাবিক। রাশিয়া কিংবা ইরানই এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমের তরফে একটি বিবৃতি সামনে এসেছে। সেখানে ইরানের ভাষায় যা বলা হয়েছে, তার তর্জমা করলে দাঁড়ায় 'যুদ্ধবাজ ও ইরান-বিদ্বেষী মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নরকে যাওয়ায়, আমি ইরানের জাতিকে অভিনন্দন জানাই।' এদিকে গ্রাহাম রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক ছিলেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর তিনি পুতিনকে হত্যার জন্য রাশিয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি পুতিনকে জুলিয়াস সিজারের মতো একজন স্বৈরশাসক বলেও উল্লেখ করেন। মাগা পডকাস্টার ক্লিন্ট রাসেল জানাচ্ছেন, ইউক্রেনে যে ড্রোন কারখানা দর্শনে গিয়েছিলেন গ্রাহাম, সেটাই পরদিন উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। আর তারপর আচমকাই জানা গিয়েছে গ্রাহাম মৃত। এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, 'বিস্তারিত তথ্য পাইনি। তবে এটা বলতেই পারি, রাশিয়া হয়তো মেরে ফেলেছে ওঁকে।' ফলে ক্রমশই ঘন হয়েছে কুয়াশা।
ভারত লিন্ডসে গ্রাহামকে চেনে ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ষড়যন্ত্রের জন্য। রুশ তেল কেনার অভিযোগে একাধিকবার ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। গ্রাহামকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে আমেরিকা দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস করে দেবে। ভারত রাশিয়াকে সাহায্য করছে এবং এর জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত। যদিও পরে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করতে শোনা যায় তাঁকে। বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দারুণ কাজ করেছেন। অনেক দেশকে আমেরিকার প্রতি তাদের আনুগত্য পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছেন।’’
