প্রেমিকার মৃত্যু হয়েছিল হামাসের নৃশংস হামলায়। দেখতে দেখতে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিচ্ছেদের জ্বালা ছিল অব্যাহত। এবার প্রেমিকার কবরের সামনেই মিলল যুবকের মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি পেতে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। গাজা থেকে ইজরায়েলে হামলা করে হামাস। প্রায় ৫,০০০ রকেট ছোড়ার পাশাপাশি ভূখণ্ড দিয়েও প্রবেশ করে জঙ্গিরা। সব মিলিয়ে ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইজরায়েলি ও বিদেশি নাগরিক মারা যান। ২৪০ জনেরও বেশি মানুষকে বন্দি করা হয়। ফলপ্রসূ গাজায় পালটা হামলা করে ইজরায়েলি সেনা। হামাসের ওই হামলার এক অন্যতম কেন্দ্র ছিল নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। সেখানে ছিলেন লিরন বার্দা নাম্নী এক তরুণীও। তিনি ছিলেন বার ম্যানেজারের দায়িত্বে। হামাসের হামলায় প্রাণ হারান তিনি। তারপর থেকেই গুম মেরে গিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিক বার আসরফ। দাবি, এতগুলো মাস কেটে যাওয়ার পরও তিনি বেরিয়ে আসতে পারেননি বিচ্ছেদের গহ্বর থেকে।
আসরফের এক বোনের দাবি, ''আমরা আমাদের এক ভাইয়ের বিয়েতে ছিলাম। আসরফ দৃশ্যতই একাকী বোধ করতে শুরু করেছিল। এর সে ওখান থেকে বেরিয়ে আসে। আমরা অতটা ভাবিনি। সাধারণত এরকম ভাবেও একা থাকত ও। ভেবেছিলাম সেরকমই কিছু। দেখতে দেখতে এক ঘণ্টা, দু'ঘণ্টা কেটে গেল। ও ফিরল না। তখন আমার বড় বোনের সঙ্গে মিলে আমি ওকে খুঁজতে যাই। খুঁজতে খুঁজতে লিরনরে কবরেও যাই। ও ইদানী সেখানে যেতে এবং কবরে শায়িত প্রেমিকার সঙ্গেই কথা বলত।'' তিনি আরও জানিয়েছেন, শায়িত আসরফকে দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল উনি ঘুমোচ্ছেন। পরে নজরে পড়ে রক্তের দাগ ও বন্দুকের দিকে। ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, হামাসের ওই হামলায় ইজরায়েলের সাধারণ মানুষের জীবন কতটা সংকটের মুখে পড়েছে! বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ভয়াল আঘাতের কালশিটে এখনও দগদগে!
