হেজবোল্লাকে দুরমুশ করতে দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে পা রেখেছে ইজরায়েল সেনা। সেদেশে নেতানিয়াহুর ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযানের জেরে প্রবল ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা যাচ্ছে, ফোনে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার হস্তক্ষেপ না থাকলে এতদিনে নেতানিয়াহুর ঠিকানা হত জেল।
সংবাদমাধ্যম সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এক মার্কিন আধিকারিক দাবি করেছেন, ট্রাম্প নাকি ফোনে নেতানিয়াহুকে বলেছেন, ''তুমি এসব কী করছ? একটা আস্ত পাগল... (ছাপার অযোগ্য)। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমার জীবন বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই কারণে সবাই ইজরায়েলকে ঘৃণা করে।''
বেইরুটের দক্ষিণাঞ্চলের শহরতলিতে হেজবুল্লার ঘাঁটিতে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। দক্ষিণ লেবাননে হামলাকে সম্প্রসারিত করার এই পরিকল্পনা মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না ট্রাম্প। তাঁর সবচেয়ে বড় ভয়, এই যুদ্ধ জিগিরে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার পরিবেশ বিগড়ে যেতে পারে। কোনওভাবেই যাতে তা না হয়, সেব্যাপারে ওয়াশিংটন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বলে রাখা ভালো, দক্ষিণ লেবাননে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পাহাড় দখল করেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। এই পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গ। ৪৪ বছর পর সেই দুর্গে উঠেছে ইজরায়েলের পতাকা। আর এহেন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুকে তাই ফোনে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেছেন ট্রাম্প। যা নিয়ে চর্চা আন্তর্জাতিক মহলে।
এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দীর্ঘ সেই বৈঠকেও কোনও রফাসূত্র মেলেনি। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি এবার তেহরানে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দেবেন ট্রাম্প? এই জল্পনাই এখন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ট্রাম্প বৈঠকেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকার দেওয়া অন্যতম প্রধান শর্তগুলি যদি ইরান না মানে তাহলে তেহরানে ফের অভিযান শুরু করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে তিনি এমন কথা বললেও আসলে তিনি যুদ্ধ আর বাড়াতে চান না। আপাতত হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিস্থিতি কেবল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন। মত ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
