মৃত্যু আর থাবা বসাবে না মানব শরীরে! বিজ্ঞানকে হাতিয়ার করে কার্যত ঈশ্বরের সঙ্গে যুদ্ধে নামলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বার্ধক্যকে চিরতরে মুছে ফেলতে ২.৪৭ লক্ষ কোটির বিরাট বিজ্ঞান গবেষণায় সিলমোহর দিয়েছে রুশ প্রশাসন। 'নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজি' নামের এই প্রকল্পে মিনি পিগস (বিশেষ প্রজাতির শূকর)-এর শরীরে মানব অঙ্গের উৎপাদনের কাজ শুরু হতে চলেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রকল্পে জিন থেরাপি, ল্যাবে মানব অঙ্গ তৈরি এবং অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় ক্রায়োথেরাপির মতো প্রযুক্তির উপর কাজ করবেন বিজ্ঞানীরা।
রাশিয়ার বিজ্ঞান দপ্তরের মন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি গত এপ্রিল মাসে জানিয়েছিলেন, তাঁদের বিজ্ঞানীরা এমন একটি জিন থেরাপি শুরু করেছেন যা শরীরে কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। সেই পথে হেঁটে এবার রুশ সরকারের দাবি, এই বিরাট প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল মানব শরীরের বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ধীর করা। যা কার্যতই মানুষকে অমরত্বের দিকে নিয়ে যাবে। এবং এমন পরীক্ষার ফলে এই দশকের শেষে ১.৭৫ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচবে। জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ বায়োপ্রিন্টিং-এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত। এর মাধ্যমে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে জীবন্ত টিস্যু ও অঙ্গ তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় রুশ বিজ্ঞানীরা মানুষের তরুণাস্থি (cartilage) এবং ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি করার দাবি করেছেন। পরবর্তী লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে মানব শরীরে এই অঙ্গ প্রতিস্থাপন। বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী, জিনগতভাবে পরিবর্তিত ছোট আকারের শুয়োরের শরীরে মানুষের যকৃৎ, কিডনি এবং হৃৎপিণ্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘাটতি কমাতে পারে।
রুশ সরকারের দাবি, এই বিরাট প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল মানব শরীরের বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ধীর করা। এবং এই দশকের শেষ নাগাদ ১.৭৫ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, অমরত্বের লক্ষ্যে পুতিন দীর্ঘদিন ধরে ক্রায়োথেরাপি এবং পেপটাইড থেরাপি নিচ্ছেন। রুশ বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির খাভিনসন পুতিনের শরীরে বাছুরের টিস্যু থেকে তৈরি বিশেষ পেপটাইড প্রয়োগ করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বার্ধক্য রুখতে এই প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে কার্যকরী। এবং এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি ১২০ বছর পর্যন্ত সুস্থ শরীরে বাঁচতে পারেন। এখানেই শেষ নয়, নিজেকে তরুণ রাখতে ক্রায়োথেরাপিও নিচ্ছেন পুতিন। এর মাধ্যমে শরীরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাইনাস ১১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিয়ে আসা হয়। অস্ট্রিয়ার প্রাক্তন চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ জানিয়েছেন যে, ২০১৮ সালে ক্রেমলিনের এক বৈঠকে পুতিন তাঁর কাছে এই থেরাপির উপকারিতা ব্যাখ্যা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছর বেজিংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজের সময় পুতিন ও চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কথোপকথন গোটা বিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সেখানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে মানুষের আয়ু ১৫০ বছর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় দু'জনকে। তাঁদের কথোপকথন একটি মাইকে রেকর্ড হয়েছিল। সেই সময় এই দুই নেতার আলোচনাকে সাধারণ কথোপকথন বলে মনে করা হলেও, এখন দেখা যাচ্ছে, মানুষকে দীর্ঘায়ু করার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট। জানা যাচ্ছে, আশ্চর্য এই প্রকল্পকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুতিনের চিকিৎসক কন্যা মারিয়া ভোরোন্তসোভা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক।
