ইরান যুদ্ধে আমেরিকার প্রধান মাথাব্যাথা হরমুজ (Hormuz)। বিশ্বের তৈল ধমনী হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে ইরান। পারস্য উপসাগরের তালা খুলতে নাজেহাল অবস্থা আমেরিকার। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই এবার হরমুজের নাম বদলে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump)। ভরা সভায় 'স্ট্রেইট অফ হরমুজের' নাম 'স্ট্রেইট অফ ট্রাম্প' বলে উল্লেখ করলেন তিনি। তাঁর মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি হরমুজের নাম বদলে নিজের নামে রাখতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ইরানের সঙ্গে প্রায় একমাস ধরে চলমান যুদ্ধের পর সংঘর্ষ বিরতির মেয়ার বাড়িয়ে ১০ দিন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আনতে ১৫ দফা শর্ত দিয়ে আলোচনারও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে আমেরিকার সেই সব শর্ত পত্রপাঠ খারিজ করেছে ইরান। এই ডামাডোলের মাঝেই সম্প্রতি ফ্লোরিডার মায়ামিতে এক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বক্তব্য রাখার সময় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে 'স্ট্রেইট অফ ট্রাম্প' বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপরই তা সংশোধন করে রসিকতার ছলে বলেন, "ও হো, ওটা তো হরমুজ। বড় মারাত্মক ভুল হয়ে গিয়েছে।"
বক্তব্য রাখার সময় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে 'স্ট্রেইট অফ ট্রাম্প' বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এরপরই তা সংশোধন করে রসিকতার ছলে বলেন, "ও হো, ওটা তো হরমুজ। বড় মারাত্মক ভুল হয়ে গিয়েছে।"
তবে ট্রাম্পের এই 'নিছক ভুল'কে মোটেই ভুল হিসেবে দেখছে না ওয়াকিবহাল মহল। তাদের দাবি, এই ভুলের মাধ্যমে ট্রাম্প আসলে কৌশলী বার্তা দিয়েছে ইরানকে। সেই বার্তা হল, ইরানের হাত থেকে হরমুজকে পুরোপুরি মুক্ত করা। এবং সেখানে মার্কিন আধিপত্য বিস্তার। আলোচনার পথ খোলা রাখলেও, ইরান যদি সেই পথে না হাঁটে তবে আমেরিকা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে হরমুজে। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
হরমুজের নিকটে অবস্থিত ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি শুরু করেছে আমেরিকা। এই দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির হৃদয় বলা যেতে পারে। এখানেই রয়েছে ইরানের যাবতীয় তেলের মজুত ভাণ্ডার ও সামরিক ঘাঁটি। ইরান থেকে রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। আমেরিকা যদি এই দ্বীপ দখল করে তবে হরমুজ তো বটেই পঙ্গু হয়ে যাবে ইরানের অর্থনীতিও।
