ভারতকে সোজা নরকের সঙ্গে তুলনা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! একটি পডকাস্টে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত এবং চিন-সহ একাধিক দেশকে 'হেলহোল' বলে অভিহিত করেছেন। এই 'হেলহোল' শব্দটি মূলত ব্যবহার হয় এমন কোনও অপরিষ্কার জায়গা বোঝাতে, যেখানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং অরাজকতা চলছে। এককথায়, হেলহোল শব্দটির অর্থ নারকীয়। এবং ট্রাম্পের কথায়, ভারত একেবারে হেলহোল।
একটি রেডিও পডকাস্টে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয় জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রদানের ইস্যুটি নিয়ে। সেখানেই বিতর্কিত মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, "ভারত, চিন বা অন্যান্য হেলহোল থেকে সকলে আসে, নবম মাসে আমেরিকায় এসে সন্তানের জন্ম দেয়, সেই সন্তান সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। তারপর সেই সন্তানের গোটা পরিবার আমেরিকায় এসে নাগরিক হয়ে যায়।" এখানেই শেষ নয়, মার্কিন মুলুকে কর্মরত ভারতীয়দের নাম না করে 'ল্যাপটপ থাকা গ্যাংস্টার' বলেও তোপ দেগেছেন ট্রাম্প।
নিজের সোশাল মিডিয়ায় এই বক্তব্য লিখিত আকারে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, "আমার মনে হয় আমেরিকার সমস্ত মাফিয়াদের থেকেও বেশি ক্ষতি হয়েছে এই অভিবাসীদের কারণ। ওরা আমাদের দেশে এসে আমাদেরই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে দিয়েছে।" ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সংবিধান যখন লেখা হয়েছিল তখন ধারণা ছিল না যে বিমানে চেপে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমেরিকায় এসে সন্তানের জন্ম দেবেন। তাই গণভোটের মাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয়বার আমেরিকার মসনদে বসার পরই নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো আইন সংস্কারের ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের আভ্যন্তরীণ সুরক্ষার যুক্তি দিয়ে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে কাটছাঁটের কথা বলেন তিনি। তার মধ্যে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়েও জয় পেয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব খারিজ সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। এনিয়ে বিচারবিভাগ সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব নিতে পারে না। চাইলে প্রেসিডেন্ট নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে পারেন এবং তাতে জন্মসূত্রে আমেরিকান হওয়ার বিষয়টি বাতিল হতেও পারে।
