ইরানকে বাগে আনতে আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী! সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বললেন, “সৌদির যুবরাজ প্রকৃত যোদ্ধা।”
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “সলমন একজন প্রকৃত যোদ্ধা। তিনি আমাদের সঙ্গে লড়ছেন। সৌদি চমৎকার কাজ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও চমৎকার। শুধু তা-ই নয়, কাতারও অবিশ্বাস্য রকম ভালো কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “কাতার বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। সেখানে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে ইরান। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা চমৎকার কাজ করেছে। কাতার খুবই শক্তিশালী।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ল স্ট্রিট জার্নালে’র দাবি, সৌদি ও আমিরশাহী সরাসরি ইরান যুদ্ধে (Iran War) যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ সূত্রকে উদ্ধৃত করে তাদের দাবি, সৌদি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এতদিন ইরানের বিরুদ্ধে এই বিমানঘাঁটি ব্যবহারের জন্য আবেদন জানিয়েছিল আমেরিকা। তবে সে প্রস্তাবে রাজি ছিল না সৌদি। কিন্তু অবশেষে অনুমতি দিল তারা। এর অর্থ হল - সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে নিজেদের ভুখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের রণনীতি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখা। এই একটি নীতিতেই বিপাকে পড়েছে আমেরিকা-সহ গোটা মধ্যপ্রাচ্য। বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেলের বাণিজ্য এই পথেই চলে। যা বন্ধ হওয়ায় টালমাটাল পৃথিবীর জ্বালানি ক্ষেত্র। এর উপর লাগাতার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদি এবং আমিরশাহী। আমিরশাহীর তেল রপ্তানির বন্দর ফুজাইরাহ-তেও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। যার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পন্ন ছিন্ন হয়েছে ইরানের। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি যদি আমেরিকার সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে তবে তা মহাযুদ্ধের রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।
