আহত কিন্তু মৃত নয়। সেটাই ফের বুঝিয়ে দিল ইরান। যুদ্ধ বিরতিতে এবার আমেরিকাকে পালটা শর্ত দিল তেহরান (US Iran Ceasefire Terms)। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তারা শান্তি ফেরাতে আগ্রহী। কিন্তু তার পরিবর্তে ওয়াশিংটনকে মানতে হবে কিছু শর্ত। তেহরানের দেওয়া প্রধান দুই শর্ত হল - মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলি বন্ধ করতে হবে আমেরিকাকে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। কিন্তু ইরানের দেওয়া এই শর্ত কি মানবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প?
সূত্রের খবর, ইরান তাদের এই শর্তগুলি ইতিমধ্যেই ট্রাম্প সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে। তবে এবিষয়ে আমেরিকা এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি। ইরানের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যদিকে, লেবাননের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী হেজবুল্লার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে ইজরায়েলকে। এখানেই শেষ নয়, হরমুজ নিয়ে একটি পরিকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান। তারা জানিয়েছে, হরমুজে জাহাজ চালাচলে ‘অনুমতি’ পেতে গেলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে ইরানকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজের উপর নিজেদের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে ইরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইরানের এই শর্ত ট্রাম্প মানবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলি আমেরিকার কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইরানের কথা মতো আমেরিকা সেই ঘাঁটিগুলি বন্ধ করে দেবে সেই সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছেন ট্রাম্প। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরমুজের তালা খোলা ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছেন ট্রাম্প। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হরমুজের তালা খোলা ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে এসেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে আমেরিকার। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, ইরান তাঁকে বিরাট উপহার পাঠিয়েছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ওরা। আলোচনা সঠিক লোকেদের সঙ্গে চলছে বলেও জানান ট্রাম্প। এসবের মাঝেই সামনে এসেছে ১৫ দফা শর্ত। কিন্তু আমেরিকার এই ১৫ দফা শর্ত ইরান মানবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর সংশয়। তবে সূত্রের খবর, ইরান পাঁচ বছরের জন্য় তাদের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা হ্রাস করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে শর্ত এবং পালটা শর্তে আপাতত জটিল হয়ে উঠেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। কবে এবং কোন পথে দু'পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, সেটাই এখন দেখার।
