যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল ভারত। সংকটের পরিস্থিতিতে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিল করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর। সূত্রের খবর, উপত্যকার বডগামের বাসিন্দারা সোনা, রুপো, নগদ টাকা দিয়েও সাহায্য করেছেন। কাশ্মীরিদের পক্ষ থেকে দেওয়া অনুদান ও সহমর্মিতার জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল ইরানের দূতাবাস। কিন্তু আচমকাই সেই পোস্ট তারা মুছে দিয়েছে। তারপরই বিভিন্ন রকম জল্পনা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু কেন সেই পোস্ট মুছে দিল দূতাবাস? জানা গিয়েছে, কিছু পাক নাগরিক ইচ্ছাকৃতভাবে পোস্টগুলির কমেন্টে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছিলেন এবং বিভ্রান্তি তৈরি করছিলেন। তাঁরা বারবার বলছেন, কাশ্মীর ভারতের অংশ নয়। এমনকী তাঁরা ইরানকেও সেই অবস্থানে আসতে আহ্বান করেন। যেহেতু কাশ্মীর একটি সংবদেনশীল বিষয়, সেই কারণেই এই পোস্টগুলি মুছে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের মানুষের সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভারতের ইরানি দূতবাস। তাদের তরফে এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে বলা হয়েছে, 'অত্যন্ত কৃতজ্ঞ হৃদয়ে আমরা কাশ্মীরের জনগণের মানবিক সহায়তা এবং আন্তরিক ভালবাসায় আপ্লুত। ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই। এই উদারতা কখনও ভোলা যাবে না।' শুধু তা-ই নয়, তাদের তরফে একাধিক ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করা হয়। কিন্তু সব পোস্টই দূতাবাস মুছে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারত এবং ইরানের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা দু’দেশের বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে সহযোগিতার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে কাশ্মীর বারবারই স্পর্শকাতর বিষয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই উপত্যকায় বসবাসকারী মুসলমানদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আবার খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে পথে নামে এই কাশ্মীরই পথে নেমেছিল। এমনকী শ্রীনগরে ইজারায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি পুড়িয়েও প্রতিবাদ দেখান পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি।
