বন্ধ হরমুজের তালা এখনও খুলতে পারেনি আমেরিকা। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্থায়ী সংঘর্ষবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না তারা। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই এবার সামনে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতি। জানিয়ে দিলেন, 'ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছে আমেরিকা। ফলে হরমুজ থেকে শুল্ক আদায়ের অধিকার আমাদের।'
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন একটি চুক্তি অবশ্যই মেনে নেবেন যেখানে নির্বিঘ্নে জ্বালানি জাহাজগুলির যাতায়াতে বাধা পড়বে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানকে শুল্ক আদায়ের অধিকার দেওয়া হবে কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট বলেন, "কোনওভাবেই না। ইরানে আমরা জিতেছি, ওরা হেরেছে। আমেরিকা ওই পথ দিয়ে শুল্ক আদায় করবে।" এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্লুপ্রিন্টও তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। সুর চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই যুদ্ধে আমেরিকা জয়ী হয়েছে, ফলে ওখানকার যাবতীয় শর্ত আমেরিকা নির্ধারণ করবে।"
ট্রাম্পের ঘোষণা, 'ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছে আমেরিকা। ফলে হরমুজ থেকে শুল্ক আদায়ের অধিকার আমাদের।'
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগছে গোটা পৃথিবী। দোষের ভাগিদার হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবারই তিনি বড় হুমকি দিয়েছেন তেহরানকে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, ‘মঙ্গলবার ইরানে একই সঙ্গে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’ পালিত হবে। আগে যেমনটা হয়নি!’ সেই সঙ্গেই অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে তিনি লেখেন, ‘প্রণালীটা খুলে দে…, নইলে তোদের নরকে ঠাঁই হবে।’
তবে মার্কিন হুমকির কাছে নাথানত করতে নারাজ ইরান। তাদের নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, ”এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর বিদেশি আধিপত্যের যুগ নিশ্চিতভাবেই শেষ হয়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় কখনওই ফিরবে না। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইহুদি দেশের (ইজরায়েল) জন্য।” পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে ইরান তাদের সার্বভৌম ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষা করেই যাবে।
