দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে ইজরায়েল ও লেবানন। সেই বৈঠকের আগেই দুই দেশের মধ্যে এবার ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মাঝেই ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি বৈঠকের ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৪ বছর পর হতে চলেছে দু'দেশের ঐতিহাসিক এই বৈঠক। তাঁর আগেই এবার ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।
এদিন নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, 'লেবাননের সম্মানীয় প্রেসিডেন্ট জোসেফ রাউন ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা হল। নিজ নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই রাষ্ট্রপ্রধান আগামী ১০ দিনের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছেন। ৩৪ বছর পর গত মঙ্গলবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে আমাদের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।' পাশাপাশি ট্রাম্প লেখেন, 'আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ড্যান্স, বিদেশমন্ত্রীর রুবিওকে নির্দেশ দিয়েছি, জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ডেন রেজিন কেনের সঙ্গে মিলে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করুন।' এরপর আত্মপ্রশংসায় মগ্ন হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, 'ইতিমধ্যেই আমি বিশ্বের নটি যুদ্ধ থামিয়েছি। এই যুদ্ধ থামলে তা হবে আমার দশম কৃতিত্ব। চলুন তবে, যুদ্ধ থামানো যাক।' পাশাপাশি এই পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত ইজরায়েল বা হেজবোল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি আসেনি।
আত্মপ্রশংসায় মগ্ন হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, 'ইতিমধ্যেই আমি বিশ্বের নটি যুদ্ধ থামিয়েছি। এই যুদ্ধ থামলে তা হবে আমার দশম কৃতিত্ব। চলুন তবে যুদ্ধ থামানো যাক।'
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মাঝেই সম্প্রতি নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, 'ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান সংঘাত কমানোর চেষ্টা করছি। প্রায় ৩৪ বছর পর দুই দেশের নেতারা মুখোমুখি হতে চলেছেন। শীঘ্রই হতে চলেছে এই বৈঠক। নিশ্চিতভাবে এটা একটা দারুন ব্যাপার।' অন্যদিকে, এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, আমি আশাবাদী এই বৈঠকের মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হতে চলেছে। পাশাপাশি তাঁর বার্তা, বৈঠকের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সীমানায় লেবাননের সেনার নিয়ন্ত্রণ। সেখানে অন্য কেউ নাক গলাবে না। তাছাড়া শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, ইজরায়েল গঠন হওয়ার পর ১৯৪৮ সাল থেকেই লাগাতার সংঘাত চলছে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে কোনওরকম কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৮৩ সালে লেবানন যুদ্ধের পরে মার্কিন মধ্যস্থতায় এই প্রথম দুই দেশের নেতারা বৈঠকে বসতে চলেছেন। যদিও এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লা। সম্প্রতি উত্তর ইজরায়েলের ১৩টি শহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।
পালটা দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জেবেইল এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েল। সূত্রের খবর, এই মারণ হামলায় একটি গোটা গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের টায়ার এবং বেইরুট শহরের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটিকেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ইজরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৭। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১৭২ জন শিশু এবং ৯০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। আহতের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার।
