বন্ধুকে বিপদে ফেলে এবার সিরিয়া থেকে পিঠটান আমেরিকার। এক দশক ধরে ঘাঁটি গেড়ে থাকার পর অবশেষে সিরিয়ার মাটি থেকে সেনা প্রত্যাহার আমেরিকার। বৃহস্পতিবার হাসাকাহ প্রদেশের কাসরাক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটাই ছিল সিরিয়াতে আমেরিকার শেষ ঘাঁটি। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে সিরিয়ায় অবস্থান করছিল মার্কিন বাহিনী। তবে আমেরিকা সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারে ‘ওয়াইপিজে’ বা কুর্দদের বিপদ বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পরই সিরিয়ার সেনাবাহিনী ওই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে আমেরিকা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জর্ডান সীমান্ত হয়ে সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে। আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিরিয়ার বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ায় সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে হঠাতে প্রবল লড়াই চালিয়েছিল ‘ওয়াইপিজে’ বা কুর্দ বিদ্রোহীরা। আমেরিকা ও ন্যাটোর সমর্থন ছিল এদের সঙ্গে। এবার আমেরিকা সরে যাওয়ায় কুর্দদের উপর তুরস্কের আগ্রাসন ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর গত বছর সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ও নয়া সরকার গঠনের পর এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। আমেরিকার মধ্যস্থতায় এসডিএফ ও সিরিয়া সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়। এরপর ধাপে ধাপে এখান থেকে সেনা সরাতে শুরু করে আমেরিকা। তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সিরিয়ায় কুর্দদের বিপদ বাড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে হঠাতে প্রবল লড়াই চালিয়েছিল ‘ওয়াইপিজে’ বা কুর্দ বিদ্রোহীরা। আমেরিকা ও ন্যাটোর সমর্থন ছিল এদের সঙ্গে। পালটা সিরিয়া সীমান্তে কুর্দ অধ্যুষিত এলাকায় রাসায়নিক হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তুরস্কের বিরুদ্ধে। এবার আমেরিকা সরে যাওয়ায় কুর্দদের উপর তুরস্কের আগ্রাসন ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য আমেরিকার এহেন নীতি এই প্রথমবার নয়, এর আগে একই ঘটনা দেখা গিয়েছিল আফগানিস্তানে। সেখানেও নর্দান অ্যালায়েন্সকে একা ফেলে পঞ্চশিরের প্রয়াত সিংহ আহমদ শাহ মাসুদের পুত্র জুনিয়র মাসুদের যোদ্ধাদেরও একা ফেলে পালিয়েছিল আমেরিকা।
