সপ্তাহান্তে ইরানে ভয়ংকর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সঙ্গী ছিল ইজরায়েল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। রবিবার এমনটাই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে রাজি ইরান। তাই তেহরানের অনুরোধেই হামলার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার থামবে যুদ্ধ?
ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে যাবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও বন্ধ হবে। ইরান এবং মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলি আমাদের নতুন করে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত করতে অনুরোধ করেছে। কারণ, তেহরান চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘বিশ্বের ভবিষ্যতের স্বার্থে এবং ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আমি তেহরানে হামলা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছি।’ তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন, যদি চুক্তিটি দ্রুত স্বাক্ষরিত না হয়, তাহলে ইরানে ফের তিনি হামলা শুরু করবেন।
তবে হামলা স্থগিত করেও হুমকি দিতে ছাড়েননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমেরিকা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ও সুসজ্জিত। ওয়াশিংটনের এহেন সামরিক শক্তির নজির বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি।” ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে এবার ইজয়ায়েলও যোগ দেবে। এই চুক্তির মাধ্যমে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটবে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে তেল আভিভ এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি।
এদিকে প্রকাশ্যে না এলেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লাকে কয়েকদিন আগেই বার্তা দিয়েছিলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝে মোজতবার বার্তা, ‘জেহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ হেজবোল্লার যোদ্ধাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন ইরানের সুপ্রিম লিডার। বলেন, “লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা ইরানের দায়িত্ব। ইজরায়েলের আক্রমণের সামনে একমাত্র হেজবোল্লাই অটল শিলার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
