একবার তিনি দাবি করেন, ইরানে যুদ্ধ শেষের পথে। পরমুহূর্তেই ইরানের আশেপাশে আরও বেশি করে সেনা মোতায়েন করেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে চেষ্টা চলছে গোটা বিশ্বজুড়ে। তারমধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এহেন খামখেয়ালি আচরণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রশ্ন উঠছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি আদৌ শান্তি চান? নাকি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটাই তাঁর উদ্দেশ্য?
দীর্ঘ একমাসেরও বেশি রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধের পর সাময়িক সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান-আমেরিকা। রফাসূত্র বের করতে সম্প্রতি ইসলামাবাদে দু’পক্ষ আলোচনায় বসে। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। তারপরই হরমুজ অবরুদ্ধ করতে তোড়জোড় শুরু করে দেয় আমেরিকা। ফলে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ঘোর সংকট তৈরি হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে আমেরিকা এবং ইরান, এমনটাই সূত্রের খবর।
আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ। ততদিনে যদি দুপক্ষ শান্তি বৈঠকে একমত হতে না পারে, তাহলে আবারও সামরিক আক্রমণ শুরু হতে পারে। বিশ্বজুড়ে আবারও ছড়িয়ে পড়বে অশান্তি।
তবে সেই বৈঠকের আগেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে নানারকম মন্তব্য এবং কাজকর্ম করে চলেছেন ট্রাম্প। বুধবার সকালে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় ব্যাপারটা শেষ হয়েই এসেছে। আমরা যুদ্ধশেষের খুব কাছাকাছি রয়েছি। আমরা যদি সব ধ্বংস করে দিই,তাহলেও ওদের সব কিছু নতুন করে গড়তে কুড়ি বছর লেগে যাবে। এবং আমরা এখনও শেষ করিনি।” এই মন্তব্য করার কয়েকঘণ্টা পরেই প্রকাশ্যে এসেছে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন। সেখানেই জানানো হয়েছে, নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে পেন্টাগন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন নৌসেনার তিনটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। নতুন করে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর অর্থ, মধ্যপ্রাচ্যে আরও আগ্রাসী হতে চাইছেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শেষেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে যেতে পারে মার্কিন সেনার এই অতিরিক্ত বাহিনী। উল্লেখ্য, আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ। ততদিনে যদি দুপক্ষ শান্তি বৈঠকে একমত হতে না পারে, তাহলে আবারও সামরিক আক্রমণ শুরু হতে পারে। বিশ্বজুড়ে আবারও ছড়িয়ে পড়বে অশান্তি। 'যুদ্ধবাজ' ট্রাম্প কি আদৌ শান্তি ফেরাবেন? উঠছে প্রশ্ন।
