সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইউক্রেনের মাটিতে নতুন করে রাশিয়ার হামলায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিয়েভের সচিবালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘটনায় রবিবার ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন রাশিয়ার উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপাবে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, মার্কিন অর্থসচিব হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার থেকে যে দেশ তেল কিনছে তাদের উপর আরও শুল্ক চাপানো হবে। কারও নাম না নিলেও এই হুঁশিয়ারি যে ভারতকে লক্ষ্য করে তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।
সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিরাট হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ৮০০-র বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে ইউক্রেনের রাজধানীতে। হামলায় ৪ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত বহু মানুষ। দাবি করা হচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠকের পর রাশিয়ার এহেন আক্রমণে যারপরনাই ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রবিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক বৈঠক করার সময় এই প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয়, আমেরিকা কী নতুন করে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ। রশিয়ার উপর নতুন করে বড় নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।'' যদিও ঠিক কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে রাশিয়ার উপর সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি ট্রাম্পের তরফে।
এদিকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ঘণ্টাখানেক আগেই ভারতের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, ''যে দেশগুলি রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে, তাদের উপরে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে আরও শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে।" তাঁর দাবি, "এই পন্থা অবলম্বন করলেই রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। এবং পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করবে।" বেসেন্ট বলেন, "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লায়েনের সঙ্গে ফোনে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। রাশিয়ার উপরে কীভাবে আরও চাপ সৃষ্টি করা যায়, তা নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।" তবে মার্কিন সচিব এই নিষেধাজ্ঞায় কোনও দেশের নাম না নিলেও তাঁর হুঁশিয়ারি যে ভারতকে উদ্দেশ্য করে তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
কারণ, রাশিয়ার থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চিন। এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার অভিযোগ করেছেন, ভারত রাশিয়ার থেকে জ্বালানি তেল কিনে রাশিয়ার যুদ্ধের মেশিন জারি রাখতে সাহায্য করছে। যদিও চিন ইস্যুতে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ট্রাম্প। এহেন পরিস্থিতিতে অনুমান করা হচ্ছে নতুন করে ভারতের উপর আরও শুল্ক লাগু করবে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ ও পরে রুশ তেল কেনার অভিযোগে আরও ২৫ শতাংশ অর্থাৎ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে ভারতের উপর। এবার শুল্কের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনাও বাড়ছে।
