ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাঝেই প্রতিবেশী ব্রিটেনের উপর চটে লাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে সবক শেখাতে ব্রিটেনের কাছে দুটি বিমানবাহী রণতরী চেয়েছিল আমেরিকা। তবে যুদ্ধের ৯ দিনের মাথায় ব্রিটেনের তরফে কোনও সবুজ সংকেত না মেলায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প কটাক্ষের সুরে জানালেন, 'থাক, আর প্রয়োজন নেই। তবে আমরা বিষয়টি মনে রাখব।'
ইরান বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার সাহায্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিবৃতি জারি করেছে ব্রিটেন। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, 'আমেরিকার আবেদনের বিষয়টি তারা গুরুত্ব সরকারে পর্যালোচনা করছে। ব্রিটেনের দুটি বিমানবাহী রণতরীর একটি এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে পূর্ণ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে।' যদিও তা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়ে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজের ট্রুথ হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লেখেন, 'আমেরিকার এককালের মহান মিত্র ব্রিটেন। সম্ভবত সমস্ত বন্ধুর মধ্যে সেরা। অবশেষে তারা মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে।' এরপর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে কটাক্ষের সুরে লেখেন, 'ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। আমাদের আর ওগুলির প্রয়োজন নেই। তবে আমরা এটা মনে রাখব। আমরা এমন মানুষকে চাই না, যারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, যখন আমরা জিতছি তখন এসে যোগ দেয়।' শুধু তাই নয়, স্টারমারকে তোপ দেগে ট্রাম্প আরও লেখেন, উনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ক্ষতি করছেন।
স্টারমারকে কটাক্ষের সুরে ট্রাম্প লেখেন, 'ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। আমাদের আর ওগুলির প্রয়োজন নেই। তবে আমরা এটা মনে রাখব।'
উল্লেখ্য, এর আগে ভারত মহাসাগরে ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছিল আমেরিকা। তবে শুরুতে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেও পরে রাজি হয় ব্রিটেন। স্টারমার যুক্তি দেন প্রথমে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কারণ তাঁকে নিশ্চিত করতে হয়েছিল এই সামরিক পদক্ষেপ আইনি এবং সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। এটি নিশ্চিত হওয়ার পরেই প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণের জন্য এই সামরিক ঘাঁটিগুলি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে লাগাতার ব্রিটেনের অসহযোগিতায় এবার তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
