ইরানের উপর ইজরায়েলি হামলা সমর্থন করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যদি তেহরান মার্কিন পরমাণু চুক্তি অমান্য করে। গত বছর ডিসেম্বরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতনিয়াহুকে এই আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি এই রিপোর্ট সামনে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের দাবি, গত বছরের জুন মাসে ১২ দিনের ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রায় আট মাস পরেও হামলার বিষয়ে এই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ইজরায়েলের পাশাপাশি গত বছরের যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালায়। উদ্দেশ্য ছিল তেহরানের পরমাণু শক্তিধর হওয়ার স্বপ্নকে ধ্বংস করা। সিবিএসের দাবি, নতুন করে ইরানে যদি ইজরায়েল হামলা চালায়, সেক্ষেত্রে আমেরিকান ভূমিকা হবে আকাশেই বিমানের জ্বালানি ভরতে সাহায্য করা এবং ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলির আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি আদায় করা। যদিও একধিক দেশ ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে হামলার জন্য তারা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আসন্ন! দিনকয়েক আগেই ইরানের দিকে রওনা দিয়েছে মার্কিন রণতরী। এহেন পরিস্থিতিতে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী সচিব সেলেস্টি এ ওয়াল্যান্ডার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটবে ওয়াশিংটন। সেকারণেই ইরানের আশেপাশে ইতিমধ্যেই সামরিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে আমেরিকা।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও মনে করা হচ্ছিল, ইরানে যুদ্ধের মেঘ কেটে গিয়েছে। সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নামা আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা রদ করেছিল তেহরান। মনে করা হচ্ছিল, এবার বোধহয় চূড়ান্ত পদক্ষেপের থেকে সরে আসবে আমেরিকা। তবে সে ভুল ভেঙে পশ্চিম এশিয়ায় বিরাট নৌবহর পাঠিয়েছে পেন্টাগন। গত মাসে ৭৫০০ সেনাসমৃদ্ধ মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হয়েছিল। তারপর বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রওনা দিয়েছে ইরানের দিকে। শেষ পর্যন্ত কি রণদামামা বাজবে পশ্চিম এশিয়ায়?
