বিশ্বজুড়ে হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা! অন্যদিকে, পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা লাগাতার কমছে। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আনল আন্তর্জাতিক সংস্থা পিউ রিসার্চ অর্গানাইজেশন। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, খ্রিস্টান ধর্ম ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে ক্রমশ স্থানান্তরিত হচ্ছে সাব সাহারা, আফ্রিকার দিকে।
বিশ্বের ২০১টি দেশের ২৭০০টির বেশি আদমশুমারির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই রিপোর্ট। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে খ্রিস্টানদের সংখ্যা ছিল ২.১ বিলিয়ন। ২০২০ সালের পর থেকে সেটা বেড়ে হয়েছে ২.৩ বিলিয়ন। তবে সংখ্যা বাড়লেও শতাংশের হিসেবে কমেছে খ্রিস্টানদের সংখ্যা। এই সময়কালে বিশ্বজুড়ে ১৫ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। যার বড় অংশই অখ্রিস্টান। যার জেরে মোট জনসংখ্যার হিসেবে এই ধর্মের মানুষের সংখ্যা আগে যেখানে ছিল ৩১ শতাংশ সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮.৮ শতাংশে। অন্যদিকে লাফিয়ে বাড়ছে মুসলিমদের জনসংখ্যা। পিছিয়ে নেই হিন্দু ধর্মীরাও।
গত এক দশকে বিশ্বে হিন্দুদের সংখ্যা ১২৬ মিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে হিন্দুদের জনসংখ্যা ১৪.৯ শতাংশ।
রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্মের নাম মুসলিম ধর্ম। গত এক দশকে এই ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪৭ মিলিয়ন। বিশ্বের যে কোনও ধর্মের তুলনায় এই ধর্মের মানুষের বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। খ্রিস্টান ধর্মের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুসলিম ধর্ম। গোটা বিশ্বের ২৫.৬ শতাংশ মানুষ মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত। অর্থাৎ অর্ধেক বিশ্ব এই দুই ধর্মের অনুসারি। তবে চমকপ্রদ বিষয় হল, গোটা বিশ্বের ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করেছে ধর্মহীন মানুষের সংখ্যা। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্বের ২৪.২ শতাংশ মানুষ ধর্মহীন। অর্থাৎ ধর্মের বেড়াজাল ভেঙে নিজের নাস্তিক বলে পরিচয় দেন এই বিরাট সংখ্যার মানুষ। দিনে দিনে এই সংখ্যাটা আরও বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম ধর্মের পাশাপাশি হিন্দুধর্মের মানুষের সংখ্যাও অভূতপূর্বভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত এক দশকে বিশ্বে হিন্দুদের সংখ্যা ১২৬ মিলিয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে হিন্দুদের জনসংখ্যা ১৪.৯ শতাংশ। পিউ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে হ্রাস পাচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মীদের সংখ্যা। বর্তমানে এই ৪.১ শতাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। পাশাপাশি পৃথিবীর ৭৫.৮ শতাংশ মানুষ নিজেদের কোনও না কোনও ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করেন।
