ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ (Iran USA War) আসন্ন! দিনকয়েক আগেই ইরানের দিকে রওনা দিয়েছে মার্কিন রণতরী। এহেন পরিস্থিতিতে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী সচিব সেলেস্টি এ ওয়াল্যান্ডার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটবে ওয়াশিংটন। সেকারণেই ইরানের আশেপাশে ইতিমধ্যেই সামরিক সক্রিয়তা বাড়িয়েছে আমেরিকা।
জার্মানিতে একটি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন সেলেস্টি। শনিবার সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরও। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি-ইত্যাদি নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। ওই সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই ইরান-আমেরিকার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেন প্রাক্তন আধিকারিক। তাঁর কথায়, "যেভাবে ইরান সংলগ্ন এলাকায় সামরিক কার্যকলাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা, তাতে একটাই বিষয় বোঝা যায়। কূটনৈতিকভাবে যদি ইরানের সঙ্গে সমস্যা মেটানো সম্ভব না হয়, তাহলে যুদ্ধের পথে অবশ্যই হাঁটবে আমেরিকা।"
গত মাসে ৭৫০০ সেনাসমৃদ্ধ মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হয়েছিল। তারপর বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রওনা দিয়েছে ইরানের দিকে।
এখানেই শেষ নয়। যুদ্ধের আশঙ্কা আরও উসকে দিয়ে সেলেস্টি বলেন, "ইরানকে চাপ দিতে সামরিক কার্যকলাপ আগেও বাড়িয়েছে আমেরিকা। কিন্তু এবার যেভাবে রণতরী পাঠানো হয়েছে, আমেরিকার তরফ থেকে এত বড়সড় পদক্ষেপ এই প্রথমবার। আলোচনার টেবিলেই যেন সমস্যা মিটে যায়, সেই চেষ্টাও চলছে ভালোমতোই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি সমাধানসূত্র না বেরয় তাহলে কেবল শক্তি প্রদর্শন করে থেমে থাকবে না আমেরিকা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু করবে।" আমেরিকার তরফ থেকেই ইরানে আক্রমণ শানানো হবে বলেই তাঁর মত।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও মনে করা হচ্ছিল, ইরানে যুদ্ধের মেঘ কেটে গিয়েছে। সরকার-বিরোধী আন্দোলনে নামা আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা রদ করেছিল তেহরান। মনে করা হচ্ছিল, এবার বোধহয় চূড়ান্ত পদক্ষেপের থেকে সরে আসবে আমেরিকা। তবে সে ভুল ভেঙে পশ্চিম এশিয়ায় বিরাট নৌবহর পাঠিয়েছে আমেরিকা। গত মাসে ৭৫০০ সেনাসমৃদ্ধ মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হয়েছিল। তারপর বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রওনা দিয়েছে ইরানের দিকে। শেষ পর্যন্ত কি রণদামামা বাজবে পশ্চিম এশিয়ায়?
