ফের ইরানকে হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। জানিয়ে দিলেন, 'আর ভালোমানুষি নয়।' নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেল তাঁকে। এখনও পাকিস্তানের মাটিতে ইরান-আমেরিকার দ্বিতীয় বৈঠক হতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ফের রণং দেহি অবতারে দেখা দিলেন ট্রাম্প। পোস্ট করা ছবিতে তাঁর চোখে সানগ্লাস, হাতে অটোমেটিক রাইফেল।
ট্রাম্পকে লিখতে দেখা গিয়েছে, 'ইরান নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারছে না। কীভাবে অ-পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করতে হয়, সেটা তারা জানে না। তাদের উচিত দ্রুত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়া!'
এদিকে আমেরিকাকে পালটা দিয়েছে ইরান। জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ করে, তাহলে সাগরে জ্বলবে একের পর এক মার্কিন রণতরী। বলে রাখা ভালো, হরমুজ খুলতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকাকে শর্ত দিয়েছিল ইরান।
লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছে পরমাণু আলোচনায় বসতে হলে তাদের দু’টি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, ইরান এবং লেবাননে সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধ থামাতে হবে। পাশাপাশি, নতুন করে যাতে সংঘাত সৃষ্টি না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা যে অবরোধ তৈরি করে রেখেছে, তা তুলতে হবে। যদি উপরোক্ত শর্ত দু’টি ওয়াশিংটন পূরণ করে, তাহলেই পরমাণু আলোচনায় বসবে ইরান। কিন্তু একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে শনিবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল, শীঘ্রই ইসলামাবাদে পা রাখতে চলেছে মার্কিন প্রতিনিধি দল। আমেরিকার তরফে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের এখানে আসার কথা। উল্লেখ্য, কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই। এ-ও শোনা গিয়েছিল, এবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রথম দফার বৈঠক চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর জামাইয়ের উপরই ভরসা করতে চাইছেন ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রতিনিধি দল আসার আগেই পাকিস্তান ছাড়লেন ইরানের প্রতিনিধিরা। অনিশ্চিতই থেকে গিয়েছে দ্বিতীয় শান্তি বৈঠক। যার পর থেকেই ফের সংঘাতের আগুন জ্বলছে।
