পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে সখ্যতা ঘিরে নিজের দেশের মধ্যেই অসন্তোষের মুখে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! মার্কিন সংবাদসংস্থা ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে পাক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই মুনিরের উপরেই অগাধ আস্থা দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। সেটা কি মার্কিন সুরক্ষার পক্ষে আদৌ সঠিক? যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের উপর ভরসা রাখাটাও কতখানি উচিত, প্রশ্ন উঠছে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেই।
ফক্স নিউজের ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত পাক জেনারেল আহমেদ সইদের বক্তব্য। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের সঙ্গে মুনিরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, এবং সেটা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। মার্কিন হামলায় প্রয়াত দুই কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি এবং হোসেন সালামির সঙ্গেও মুনিরের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেও মুনিরের প্রতি ট্রাম্পের 'ভালোবাসা' এতটুকু কমেনি। বরং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের থেকে মুনিরকেই বেশি গুরুত্ব দেন ট্রাম্প, এমনটাই অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধে মধ্যস্থতা করে গোটা বিশ্বের কাছে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করে বেড়াচ্ছে পাকিস্তান। ২ সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই যুযুধান দেশ। কিন্তু তারপর পাকিস্তানে আয়োজিত শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। আবারও দুই দেশ আলোচনায় বসতে চলেছে সোমবার। এহেন পরিস্থিতিতে ফক্স নিউজের প্রতিবেদন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চলছে জোর চর্চা। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ট্রাম্পের 'পাকপ্রেম' আমেরিকার পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানকে কি আদৌ ভরসা করা যায়?
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিল রোগিও ওই প্রতিবেদনে বলেছেন, পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাস মাথায় রেখে খতিয়ে দেখা উচিত যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে তারা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য কিনা। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তারা মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সামান্যতম পদক্ষেপ করবে কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন রোগিও। যদিও মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ট্রাম্পের সঙ্গে মুনিরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো, সেই সম্পর্কের উপর আস্থা রাখা যায়। যদিও সেই যুক্তি মানতে নারাজ অনেকেই।
