সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল।’ অর্থাৎ বেশি বেশি করে তেল বা গ্যাসের খনি খুঁড়তে হবে। রিপাবলিকানদের এই স্লোগান আজকের নয়। মার্কিন মসনদে প্রত্যাবর্তন করেই আমেরিকাকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর করতে তুলতে 'জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় পুরনো কথাই নতুন করে শোনা গেল ট্রাম্পের মুখে। তিনি বললেন, ''বিশ্বের যে কোনও দেশের তুলনায় আমাদেরই পায়ের তলায় সবচেয়ে বেশি তরল সোনা... মার্কিন শক্তি ব্যবহার করে আমরা মুদ্রাস্ফীতিকে হারিয়ে দেব... ড্রিল বেবি ড্রিল।''
খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য পূর্বসূরি জো বাইডেনকে তোপ দেগে বলেন, "মুদ্রাস্ফীতিকে হারাতে আমাদের যে লড়াই, তার একটি প্রধান লক্ষ্যই হল জ্বালানির খরচ দ্রুত হ্রাস করা।" পাশাপাশি তাঁর দাবি, বাইডেনের আমলে শতাধিক পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমেরিকায়। অথচ এখন সেই প্ল্যান্টগুলির অধিকাংশই ফের খোলা হয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, ''আর সেই কারণেই অফিসে আমার প্রথম দিনই আমি জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলাম। আমাদের পায়ের তলায় যা তরল সোনা আছে তা বিশ্বের কোনও দেশের নেই। আমি সর্বকালের সবচেয়ে প্রতিভাবান দলটিকে তা অর্জন করার সম্পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি। মার্কিন শক্তি হাতে এলেই আমরা মুদ্রাস্ফীতিকে হারিয়ে দেব। ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমাব। একেই বলে ড্রিল বেবি ড্রিল।''
ট্রাম্পের 'অয়েল অ্যান্ড গ্যাস প্ল্যান'-এর অন্যতম এক অংশ হল আলাস্কায় দৈত্যাকার প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উৎপাদন সম্প্রসারণেক পরিকল্পনা। এই সিদ্ধান্তকে বাইডেনের জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর একেবারে উলটো পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তন হল ‘সর্বকালের অন্যতম সেরা কেলেঙ্কারি’। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ফের আমেরিকাকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছেন। এবার তাঁর কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে, ''ড্রিল বেবি ড্রিল।'' তাঁর এই উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত রিপাবলিকানরা একযোগেই সেই স্লোগানে গলাও মেলালেন।
