দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জেবেইল এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ ইজরায়েলের। সূত্রের খবর, এই মারণ হামলায় একটি গোটা গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। যদিও ইজারায়েলের দাবি, অভিযানে শুধুমাত্র ইরান মদতপুষ্ট বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী হেজবোল্লাকেই নিশানা করা হয়েছে। তবে এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের (South Lebanon) টায়ার এবং বেইরুট শহরের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটিকেও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বেইরুটে এ যাবৎ হামলার মধ্যেও অক্ষত ছিল সেতুটি কিন্তু এবার তা আর রইল না। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ইজরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬৭। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ১৭২ জন শিশু এবং ৯০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। আহতের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার।
সম্প্রতি শোনা যাচ্ছিল, ইজরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমেরিকাও তেল আভিভকে লেবাননে অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু মার্কিন নিষেধ উড়িয়ে লেবাননে চলছে ইজরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ। গোটা পরিস্থিতির মাঝে বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ‘ইজরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা চলছে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে প্রায় ৩৪ বছর কোনও কথা হয়নি। আগামিকাল সেই কথা হবে। এটা একটা দারুণ ব্যাপার!’
উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম তাইবেহ, নাকুরা এবং দেইর সেরিয়ানে ভয়াবহ হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। সূত্রের খবর, প্রথমে বেশ কয়েকঘণ্টা সেখানে লাগাতার গোলাবর্ষণ করা হয়। এরপর রিমোট চালিত বোমা দ্বারা গোটা গ্রামগুলি ধ্বংস করা হয়। এই হামলায় ব্যবহৃিত হয়েছিল ফসফরাস বোমা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় যে পদ্ধতির মাধ্যমে ইজরায়েলি সেনা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, তারই প্রতিচ্ছবি যেন লেবানন। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ সম্প্রতি লেবাননে বড়সড় অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। তারপরই একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে।
