shono
Advertisement
FIFA World Cup 2026

বিশ্বকাপের গপ্প: বেকহ্যামদের ম্যাচে মাঠে বোমা পোঁতার ফাঁদ! কী পরিণতি হয়েছিল ইংল্যান্ড ফুটবলারদের?

বিশ্বকাপকেই কাজে লাগিয়ে গোটা মানবজাতির শিরদাঁড়ায় কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল জঙ্গিরা! এমনই এক গল্প জড়িয়ে রয়েছ মেগা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 06:22 PM Jun 08, 2026Updated: 06:49 PM Jun 08, 2026

ফুটবল বিশ্বকাপ। চারবছর অন্তর গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের মাতিয়ে তোলার মাসদেড়েকের এক অধ্যায়। কত উত্থান-পতন, স্বপ্নপূরণ-স্বপ্নভঙ্গের মঞ্চ এই বিশ্বকাপ। সারা বিশ্বের নজর থাকে এখানে। সেই বিশ্বকাপকেই কাজে লাগিয়ে গোটা মানবজাতির শিরদাঁড়ায় কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল জঙ্গিরা! এমনই এক গল্প জড়িয়ে রয়েছ মেগা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে।

Advertisement

বিশ্বকাপের এমন রোমহর্ষক ইতিহাস জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৯৮ সালে। সেবছর বিশ্বকাপের আসর বসেছিল ফ্রান্সে। তার বছর তিনেক আগেই প্যারিসের বেশ কয়েকটি জায়গায় নাশকতার ঘটনা ঘটে। অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন প্রায় ২০০ জন। সেই হামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিল ফারিদ মেলুক নামে এক ফরাসি। নাশকতার অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড হয় তার। কিন্তু কারাবাসের মেয়াদ চলাকালীনই বিশ্বকাপে বড়সড় হামলার ছক কষে ফারিদ। তার হিটলিস্টে ছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম এবং মাইকেও আওয়েনরা, যে তরুণ তুর্কিরা পরবর্তীতে ইংল্যান্ড ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের রিজার্ভ বেঞ্চ উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষে আল-কায়দা সমর্থিত ফারিদের দলবল। সেকারণে মাঠে বোমা পোঁতার পরিকল্পনা করে তারা। এখানেই শেষ নয়, মাঠে নামা ইংল্যান্ড ফুটবলারদের লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি এবং দর্শকাসনে গ্রেনেড ছোড়ার পরিকল্পনাও ছিল।

ফারিদের ছক ছিল, দুইভাগে হামলা হবে। প্রথম নিশানা মার্সেইয়ের স্তাদ ভেলোদ্রোম। ওই স্টেডিয়ামে ১৫ জুন বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নামার কথা ছিল ইংল্যান্ড-তিউনিশিয়ার। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের রিজার্ভ বেঞ্চ উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষে আল-কায়দা সমর্থিত ফারিদের দলবল। সেকারণে মাঠে বোমা পোঁতার পরিকল্পনা করে তারা। এখানেই শেষ নয়, মাঠে নামা ইংল্যান্ড ফুটবলারদের লক্ষ্য করে গুলিবৃষ্টি এবং দর্শকাসনে গ্রেনেড ছোড়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। সন্ত্রাসবাদীদের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ ফুটবলকে ধ্বংস করা।

এমন পরিকল্পনা যদি সফল করে ফেলত জঙ্গিরা, তাহলে অন্তত শতাধিক মানুষের মৃত্যুর মঞ্চ হয়ে থাকত বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপের মাসতিনেক আগেই জঙ্গিদের এই নৃশংস পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। ইউরোপের গোয়েন্দারা মোট সাতটি দেশ থেকে শতাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের বেশ কয়েকজন দোষী সাব্যস্ত হয়। তবে এতবড় কাণ্ড দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়েছিল গোটা ফুটবল দুনিয়ার থেকে। বিশ্বকাপের বেশ কয়েকবছর পরে ইংল্যান্ড ফুটবলাররা জানতে পারেন, প্রাণের কতবড় ঝুঁকি ছিল তাঁদের। ইংল্যান্ডের তৎকালীন ম্যানেজার গ্লেন হডল বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন ২০০৯ সালে। যদিও এই ম্যাচ ঘিরে মার্সেইতে বেশ বড়সড় প্রতিবাদ হয়। আক্রমণের মুখে পড়েন ব্রিটিশ সমর্থকরা।

 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement