ম্যাচ জিতেই মাঠে হিটলারি আচরণ! বিশ্বকাপের মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা। কূটনীতিবিদদের অনেকেই মনে করছেন, খেলায় হারজিত রয়েছে। কিন্তু ম্যাচ জেতার পর লিওনেল মেসিরা যে কাজটা করেছেন সেটা জনমতকে উপেক্ষা করে একনায়কের ক্ষমতার আস্ফালনের সমতুল্য। গোটা ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের দাবি করা হয়েছে ব্রিটিশ সরকারের তরফ থেকে।
বিতর্কের কেন্দ্রে আবারও সেই ফকল্যান্ড আইল্যান্ড। বুধবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পর মাঠে রীতিমতো অনভিপ্রেত ছবি দেখা যায়। দুই পক্ষের ফুটবলাররা বিবাদে জড়ান। জটলা হয়। সেসবের মাঝেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উসকে একটি ব্যানার হাতে নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন লে সেলসোরা। ওই ব্যানারে লেখা ছিল, “‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ অর্থাৎ ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনায় মালভিনাস বলে ডাকেন। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও ওই একই পোস্টার দেখা যায়। এমনকী ম্যাচ চলাকালীনও আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ওই স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ স্বশাসিত এলাকা হলেও ১৮৩৩ সাল থেকে সেটা ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, দ্বীপগুলি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। ফকল্যান্ডের 'মালিকানা' দাবি করে ১৯৮২ সালে যুদ্ধ ঘোষণা করেন আর্জেন্টিনার একনায়ক প্রেসিডেন্ট লিওপোল্ড গালতিয়েরি। পালটা সেনা পাঠায় ব্রিটেনও। কারণ ফকল্যান্ডবাসী গণভোটে জানিয়েছিলেন, তাঁরা ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণেই থাকতে চান। তা সত্ত্বেও বহুবার ফকল্যান্ডকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে আর্জেন্টিনা।
ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের 'মালিকানা' দাবি করে মেসিরা যেভাবে পোস্টার নিয়ে মাঠে নেমেছেন, সেটার তীব্র বিরোধিতা করেছে ইংল্যান্ড। বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল বলেন, এই আচরণ একেবারেই উপযুক্ত নয়। যথাযথ তদন্ত করুক ফিফা। অতীতে এহেন রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে নির্বাসনের শাস্তি পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়া তারকা পার্ক জং উ। এবার কি মেসিরাও শাস্তি পাবেন? নাকি সেই শাস্তি কার্যকর হবে বিশ্বকাপ মিটে যাওয়ার পর?
