বিতর্কিত ওয়েলনেস কোম্পানি ‘ওয়ানটেস্ট’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সিইও নিকোল ডেডোনকে ৯ বছরের সাজা শোনানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে পাঁচ সপ্তাহের শুনানি শেষে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এবার তাঁকে সাজা শোনানো হল। পাশাপাশি সংস্থার সেলস বিভাগের প্রধান প্রাক্তন র্যাচেল চেরউইৎজকে সাড়ে ৬ বছরের সাজা শুনিয়েছে আদালত।
কী কাজ ছিল ওই সংস্থার? মূলত 'অর্গ্যাজম-ধ্যান' (Orgasmic Meditation) শেখানো হত এখানে। আসলে অবসাগে ভোগা মহিলাদের 'রতিসুখ' তথা 'অর্গ্যাজম'-এর মাধ্যমে সুখী করাই ছিল যে ধ্যানের লক্ষ্য। কিন্তু আসলে সবটা ছিল ষড়যন্ত্র। মানসিক ভাবে দুর্বল মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে বিনা পারিশ্রমিক অথবা সামান্য পারিশ্রমিক যৌন পরিষেবা-সহ নানা ধরনের পরিশ্রমের কাজ করানো হত বলে জানা গিয়েছে। দিনের পর দিন এই কাজ করে গিয়েছেন নিকোল। আদালত জানিয়েছেন, নিকোলের সংস্থা সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করত এবং ঋণগ্রস্ত করে বিভিন্ন যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করত।
আদালতে অবশ্য ডেডোন মুখ খোলেননি। তবে এক নির্যাতিতা বিস্তারিত জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁকে ভুগতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, ''আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক আঘাত পেয়েছিলাম। সেখান থেকে বাঁচতে নিকোলের ফাঁদে পা দিই। আমি ছিলাম একদম নিখুঁত টার্গেট।''
জানা গিয়েছে, ২০০৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোয় প্রতিষ্ঠিত হয় ওই সংস্থা। বলা হয়েছিল, মানুষকে যৌনতার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। রাতারাতি ফুলেফেঁপে ওঠে ব্যবসা। কিন্তু সময় গড়াতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, নানা সমস্যা রয়েছে। প্রমাদ গোনেন নিকোল। ২০১৭ সালে ১২ মিলিয়ন ডলারে তিনি বেচে দেন সংস্থাটি। তার আগের বছর থেকেই কিন্তু তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় পড়ে গিয়েছিল সংস্থাটি। আর তার জেরেই শেষপর্যন্ত সাজাও পেতে হল তাঁকে।
