যুদ্ধজর্জর হরমুজ প্রণালীতে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই, জ্বালানি সংকটের মধ্যেই সে কথা ফের একবার স্পষ্ট করল ইরান। বৃহস্পতিবার ভারতের ইরানি দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেলে লেখে, 'শুধুমাত্র ইরান এবং ওমানই হরমুজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা সুরক্ষিত হাতেই রয়েছে। চিন্তার কোনও কারণ নেই।'
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ (Strait of Hormuz)। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছয়। কিন্তু যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়াতে হরমুজ রুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। তবে তেহরানের সঙ্গে যে কয়েকটি দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের জাহাজগুলিকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই বন্ধু দেশের তালিকায় চিন, রাশিয়া, পাকিস্তানের পাশাপাশি রয়েছে ভারতও। এই পরিস্থিতিতে হরমুজে ভারতীয় জাহাজগুলির যে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই, সে কথাই ফের একবার স্পষ্ট করল তেহরান।
এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী আটটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল ৯৪ হাজার টন গ্যাস নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে BW ELM এবং BW TYR নামের দু'টি জাহাজ। সূত্রের খবর, প্রয়োজনের তুলনায় খানিকটা ঘুরপথে হরমুজ প্রণালী পার করছে ভারতীয় জাহাজগুলি। যাতে ইরান প্রশাসন নয়াদিল্লির জাহাজগুলিকে চিহ্নিত করতে পারে, সেকারণেই যেতে হচ্ছে ঘুরপথে। অন্যদিকে, এখনও হরমুজ সংলগ্ন এলাকায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে বলে খবর। যে জাহাজ ফাঁকা রয়েছে, তাতে এলপিজি বোঝাই করা হচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। ইরানের সহায়তায় সেই জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছলে দেশব্যাপী গ্যাস সংকটের সুরাহা হবে, আশা আমজনতার।
