আর বড়জোর তিন সপ্তাহ। তার মধ্যেই ইরানকে প্রস্তরযুগে পাঠানোই তাঁর লক্ষ্য, এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! এহেন হুঁশিয়ারির পালটা দিল তেহরান। জানিয়ে দিল মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনাকে আগামিদিনে আরও ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে চলেছে তারা।
এর মধ্যেই যুদ্ধশেষের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, খুব বেশিদিন আর ইরানে থাকতে চাইছেন না তাঁরা। হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”খুব শিগগিরি আমরা ওখান থেকে চলে আসব। আর দু-সপ্তাহ, দুই বা বড়জোর তিন।” তাঁর এই মন্তব্য যে যুদ্ধে ইতি টানার পরিষ্কার বার্তা, তাতে নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল। পাশাপাশি ট্রাম্প এও পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এর জন্য তেহরানের ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও চুক্তি করারও প্রয়োজন নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানকে প্রস্তরযুগে পাঠানোই তাঁর লক্ষ্য। যাতে সহজে তারা ফের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর শক্তি অর্জন করতে না পারে।
এবার তাঁকে জবাব দিল ইরান। এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ''আমাদের সামরিক শক্তি ও সরঞ্জাম বিষয়ক আপনাদের গোয়েন্দা তথ্য অসম্পূর্ণ। আমাদের বিশাল কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে আপনারা কিস্যু জানেন না।''
ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সঈদ মাজিদ মুসাভি আমেরিকাকে খোঁচা দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, 'আপনি আপনার সেনাকে কবরে পাঠিয়েছেন, ইরানকে নয়, যে দেশটাকে আপনি প্রস্তরযুগে পাঠাতে চেয়েছিলেন। হলিউডি ছবি আপনার ভাবনাচিন্তাকে গুলিয়ে দিয়েছে। তাই আপনাদের ২৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে ৬ হাজার বছরের এক সভ্যতাকে হুমকি দিচ্ছেন!'
ট্রাম্পের দাবি ছিল, তেহরানের তরফে নাকি যুদ্ধবিরতি চেয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধবিরতি চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছে আমেরিকার। কিন্তু এহেন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তেহরান সেনার শীর্ষ কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনও ‘আবেদন’ করেনি তেহরান। এদিকে এরই মধ্যে লেবাননের দক্ষিণে একাধিক জায়গায় বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। পালটা আক্রমণ শানাচ্ছে হেজবোল্লা বাহিনীও। এর মধ্যেই ইরানের মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাহলে কি নতুন করে আরও তীব্র আক্রমণ করবে ইরান? সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন এত তাড়াতাড়ি নেভার নেই বলেই আশঙ্কা ওয়াকিবহাল মহলের।
