হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা ঘোষণা করুক ভারত (India)। সম্প্রতি মোদি সরকারের কাছে এমনই আর্জি জানালো ইজরায়েল (Israel)। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তইবা এবং একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে হামাসের। সম্প্রতি বিশ্বের নানা প্রান্তে বসবাসকারী প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় বংশোদ্ভূতর সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে এমনই আবেদন জানিয়েছেন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডেয়ন সার।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এই বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সার বলেন, উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় দু'পক্ষের তরফেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে কৌশলগত, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দ্রুত নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করে সার বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিরক্ষা, কৃষি, সাইবার নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও গভীরভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। দুই দেশের এই সহযোগিতা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
ইজরায়েলের অভিযোগ, পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তইবা এবং একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে হামাসের।
এরপরই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের কড়া অবস্থান তুলে ধরে বিদেশমন্ত্রী সার বলেন, গত আড়াই বছর ধরে উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে ইজরায়েল। এই সংঘাত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এবং এই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই হামাসের কথা তুলে ধরে ইজরায়েল জানায়, পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে হামাসের। ভারতের উচিত হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা।
তবে ইজরায়েল দাবি জানালেও সে প্রস্তাব ভারত গ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের তরফে যে নারকীয় হামলা চালানো হয় তার তীব্র নিন্দা করেছিল ভারত। যদিও প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের সংঘাতে বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে দ্বিদেশীয় তত্ত্বের কথা জানিয়ে এসেছে দিল্লি। এই অবস্থায় হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান কোথাও গিয়ে ভারতের জন্য প্যালেস্টাইন বিরোধী পদক্ষেপ হয়ে উঠবে। তবে হামাস যদি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হাত মেলায় সেক্ষেত্রে ভারত কী অবস্থান নেয় সেটাই দেখার।
