সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৩০ বছর ধরে আমেরিকায় বাস করছেন, কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে এবার বিপাকে পড়লেন ৭৩ বছর বয়সি শিখ বৃদ্ধা। সন্তান-সন্ততি সকলেই আমেরিকাতে থাকলেও গ্রেপ্তার করে ভারতে ফেরত পাঠানো হল হরজিৎ কৌর নামের এই বৃদ্ধাকে। তার আগে জেলে ওই বৃদ্ধাকে অত্যাচার করার অভিযোগ উঠল মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। নিরামিষাশী হরজিতকে খেতে দেওয়া হল গোমাংস।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই শিখ বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন অভিবাসন দপ্তর। শুধু তা-ই নয় করা হয়েছে অকথ্য অত্যাচার। সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে মার্কিন পুলিশের অত্যাচার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা। তাঁর অভিযোগ, তিনি নিরামিষ আহার করেন। তবে জেলের মধ্যে তাকে গোমাংস খেতে দেওয়া হয়। হাতকড়া পরিয়ে, পা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিল। বেকার্সফিল্ডে আট থেকে দশদিন আটকে রাখা হয় তাঁকে, এটুকুই মনে আছে তাঁর। প্রবল ঠাণ্ডা ঘরে নিদেনপক্ষে গায়ে দেওয়ার মতো কম্বলও না দিয়ে রাখা হয় । এমনকী ভারতে ফেরত পাঠানোর আগে পরিবারের সঙ্গে দেখাও করতে দেওয়া হয়নি তাঁকে।
হরজিৎ কৌর নামে ওই বৃদ্ধা দুই সন্তানকে নিয়ে গত ৩০ বছর ধরে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াতে বাস করতেন। কাজ করতেন এক কাপড়ের দোকানে। নাতি-নাতনিদের নিয়ে তাঁদের সংসারে সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু সমস্যা বাঁধে গত সপ্তাহে সোমবার নিয়ম মেনে চেক-ইন করানোর জন্য সান ফ্রান্সিসকোতে অভিবাসন দপ্তরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়, আমেরিকায় থাকার জন্য বৈধ কাগজপত্র নেই হরজিৎ-এর। এর পরই তাঁকে আটক করে অভিবাসন দপ্তর।
বৃদ্ধার পুত্রবধূ মঞ্জি কৌর জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে দুই সন্তানকে নিয়ে ভারত থেকে আমেরিকা গিয়েছিলেন হরজিৎ। আমেরিকার নাগরিক হওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানালেও ২০১২ সালে সে আবেদন খারিজ কয়ে যায়। এরপর থেকে গত ১৩ বছর ধরে প্রতি ৬ মাস অন্তর নিয়মিত অভিবাসন দপ্তরে হাজিরা দিয়ে আসছেন তিনি। সরকারের তরফে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল প্রয়োজনীয় নথি না মেলা পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রের অনুমতিপত্রের ভিত্তিতে আমেরিকায় থাকতে পারবেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বন্দি করা হয়। পরিবার জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়স হওয়ায় বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন তিনি। তাঁর থাইরয়েড সমস্যা, মাইগ্রেন, অ্যাঞ্জাইটি, হাঁটুর সমস্যায় রয়েছে। এই অবস্থায় জেলের মধ্যে নৃশংস অত্যাচার করা হল ৭৩ বছরের বৃদ্ধাকে।
