ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trump) ভরসাতেই রাজপথে নেমেছিলেন ইরানের (Iran) লাখ লাখ মানুষ। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারের পতনের দাবিতে সরব হয়েছিলেন তাঁরা। তার খেসারতও দিতে হয়েছে বহু বিক্ষোভকারীকে। অন্তত সাড়ে তিন হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজও। এই পরিস্থিতিতে 'প্রতিশ্রুতি' মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাশে তো দাঁড়ালেনই না। উল্টে ইরান সরকারের প্রতি সুর নরম করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। একে বিশ্বাসঘাতকতা হিসাবেই দেখছেন ইরানি বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ। তাঁদের দাবি, "আন্দোলনকারীদের পিঠে ছুরি মেরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট!"
মূল্যবৃদ্ধি, ভেঙে পড়া অর্থনীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে গত বছরের একেবারে শেষে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইরানের ব্যবসায়ীরা। সেই আন্দোলনই ধীরে ধীরে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারও কঠোর পদক্ষেপ করা শুরু করে। দেশ জুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারীর মৃত্যুর পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসিকাঠে ঝোলানোরও হুঁশিয়ারি দেয় খামেনেইয়ের সরকার। ট্রাম্পও পালটা হুঁশিয়ারি দেন। জানান, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে সামরিক অভিযানও চালাবে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ট্রাম্পের মুখে এই 'আশ্বাস' শুনেই আরও মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমেরিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে খামেনেই সরকারকে উৎখাত করবে।
কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রুষ্ট বিক্ষোভকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সরকার তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। তাই সামরিক অভিযানের হয়তো প্রয়োজন পড়বে না। ইরানের সরকারকে এর জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন ট্রাম্প। যা দেখে বিস্মিত ইরানি বিক্ষোভকারীরা। তেহরানের এক ব্যবসায়ী বলেন, "১৫ হাজার জনের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পই দায়ী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাজমাধ্যমের পোস্টে লিখেছিলেন, আমেরিকা প্রস্তুত। তা দেখেই বহু মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। এখন বুঝতে পারছি, আমেরিকা নিশ্চয়ই ইরান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলেছে।" আর এক বিক্ষোভকারী বলেন, "আমরা ভীষণ ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প আমাদের ব্যবহার করেছেন। আমাদের বোকা বানিয়েছেন। বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।" এক মহিলা বিক্ষোভকারীর কথায়, "ট্রাম্প এদের চেয়েও (ইরান সরকারের চেয়েও) খারাপ। আমি আর কোনও আশা দেখছি না। ট্রাম্প কিচ্ছু করবে না। কেন করবে? ওঁর কিছু যায়-আসে না।"
প্রসঙ্গত, ইরানের খামেনেই সরকার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, সাম্প্রতিক আন্দোলন-বিক্ষোভে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মদত রয়েছে। তারাই ষড়যন্ত্র করে বিক্ষোভকারীদের উসকে দিয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিক্ষোভকারীরা যে ভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, তাতে খামেনেই সরকারের সেই দাবিতে সিলমোহর পড়ল বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও বিক্ষোভকারীদের অন্য একটি অংশে দাবি, "ট্রাম্প আসলে ইরান সরকারকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প সুর নরম করেছেন দেখে ইরানও আঁটসাঁট নিরাপত্তা শিথিল করবে। সেই সময়েই বড় কিছু করবেন ট্রাম্প।"
তবে ট্রাম্প ইরানকে 'ধন্যবাদ' জানানোর পর পরিস্থিতি আবার অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। কারণ ইরান সুর নরম করেনি। খামেনেই সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন এবং এত মৃত্যুর জন্য তাঁকেই দায়ী করেছেন। এর পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "ইরানে সরকার বদলের সময় এসে গিয়েছে।"
