পশ্চিম এশিয়ার রণদুন্দুভি বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় যুদ্ধ মহড়ায় নেমেছে আমেরিকা। ঘরের দুয়ারে মার্কিন সেনার দাপাদাপি মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জন উন। মুখে কিছু না বললেও এবার হাতে জবাব দিলেন কিম। জাপান সাগরকে তাক করে পরপর ১০ ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়ল কিমের সেনা। এই ঘটনার সিঁদুরে মেঘ দেখছে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলি।
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ জানান, এদিন দুপুর ১.২০ নাগাদ উত্তর কোরিয়ার পোংইয়ং-এর সুনান এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছিল যা আছড়ে পড়ে জাপান সমুদ্রের এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোনে। জাপানের সংবাদ মাধ্যমের তরফেও সেখানকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে জানানো হয় উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপানের নিকটবর্তী সমুদ্রে আছড়ে পড়েছে। এই নিয়ে প্রতিবেশী দেশের কান ঘেঁষে তৃতীয়বার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল কিম প্রশাসন।
উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপান সমুদ্রের এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোনে আছড়ে পড়েছে। এই নিয়ে প্রতিবেশী দেশের কান ঘেঁষে তৃতীয়বার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল কিম প্রশাসন।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জন উনকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, কিমের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনাতেও আগ্রহী তিনি। তবে সেই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিমের তরফে ১০ মিসাইলের হামলায় বার্তা স্পষ্ট, কোনও আলোচনার মুডে নেই কিম। উত্তর কোরিয়ার এই মিসাইল পরীক্ষার পরই সতর্ক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান। হাইঅ্যালার্ট জারি করা হয়েছে দুই দেশের তরফে।
এদিকে কিমের এই আগ্রাসন প্রসঙ্গে কূটনৈতিক মহলের মত, এই হামলা আসলে ৯ মার্চ আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ মহড়া 'ফ্রিডম শিল্ডে'র প্রতিক্রিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্রে বিরাট সংখ্যায় মার্কিন সেনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সেনার এই মহড়া চলবে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে এই ধরনের মহড়া আসলে কোনও দেশের উপর হামলা চালানোর প্রাথমিক মহড়া। সামরিক অভিযান চালানো ও অস্ত্র পরীক্ষার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই মহড়াগুলিকে। এহেন পরিস্থিতির মাঝে উত্তর কোরিয়া কী পদক্ষেপ করে সেদিকেই নজর ছিল বিশ্বের। তবে কিমের জবাব পেতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না।
