যুদ্ধের জেরে ইরানের হাতে বন্দি হরমুজ। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ বাব আল-মান্দেবে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াল ইরান সমর্থিত হাউথিরা। সম্প্রতি এই প্রণালীতে মিশরের এক পণ্যবাহী জাহাজে হামলার (Houthis Attack) ঘটনা ঘটেছে। জানা যাচ্ছে, জাহাজটি সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছিল। এই হামলার জেরে মৃত্যু হয়েছে ৬ নাবিকের। তাঁদের মধ্যে ৩ জন পাকিস্তানি। জাহাজটির সলিল সমাধি হয়েছে লোহিত সাগরে। মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে ইয়েমেনের পরিবহণ মন্ত্রক।
ইয়েমেন সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে মিশরের মালিকানাধীন 'তিহামাহ' নামের ওই জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হাউথির তরফে এই হামলা চালানো উঠেছে। হামলার জেরে ৬ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১০ জন ক্রু সদস্য। মৃতদের মধ্যে ৩ জন পাকিস্তানের নাগরিক, একজন ইন্দোনেশিয়ার ও বাকি দু'জন ইয়েমেনের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সদস্য। ইয়েমেনের তরফে বলা হয়েছে, হাউথিদের হামলার পর জাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাহায্যের আবেদন জানায়। সেই মতো হাউথি-বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস (anti-Houthi National Resistance Forces) সেখানে সাহায্যের জন্য পৌঁছলে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় হাউথিরা।
বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে মিশরের মালিকানাধীন 'তিহামাহ' নামের ওই জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে।
দাবি করা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে ইরানের পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে হাউথির হামলায় এই প্রণালীতে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। ব্রিটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও এই হামলার কথা প্রকাশ্যে এনেছে। তাদের তরফে বলা হয়েছে, অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাহাজটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার মিশরের ওই জাহাজ ইয়েমেনের মুরাদ উপকূলবর্তী অঞ্চলে ছিল তখনই হামলা হয়। এর পাশাপাশি আরও একটি ছোট জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধের অভিযোগ তুলেছে হাউথিরা। এর পালটা ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পালটা অবরোধ শুরু করে হাউথিরা। দাবি করা হচ্ছে, মিশরের ওই জাহাজে সৌদির সামরিক সরঞ্জাম ছিল। হামলার দায় স্বীকার করেছে হাউথি। সৌদি আরবের তরফে অবশ্য এখনও এই ইস্যুতে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
