যুদ্ধ মানেই নিষ্ঠুরতার প্রদর্শনী, মানবিকতার অপমৃত্যু। ইরান যুদ্ধও তার ব্যতিক্রম নয়। লেবাননে ভয়ংকর রাসায়নিক অস্ত্র সাদা ফসফরাস ব্যবহার করছে ইজরায়েল! এমনকী বেসামরিক এলাকায় ওই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ আনল একটি মানবাধিকার সংস্থা। ঠিক কতটা ভয়ংকর এই সাদা ফসফরাস?
ইরান যুদ্ধে লেবাননে নজরদারি চালানো মানবাধিকার সংস্থাটির দাবি, গত ৩ মার্চ ইজরায়েলি পদাতিক বাহিনী অবৈধভাবে বসতি এলাকায় ঘরবাড়ির উপর কামান থেকে সাদা ফসফরাস ছুড়েছে। লেবাননের দক্ষিণের শহর ইয়োমোরেতে এই হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। সাতটি উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে এই দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় ঘরবাড়ি এবং গাড়িতে 'ফসফরাস মিউনিশনস' বা সাদা ফসফরাসের গোলা ছোড়ে আইডিএফ। মানবাধিকার সংস্থাটি গবেষক রামজি কাইস বলেন, "আবাসিক এলাকায় ইজরায়েলি সেনা অবৈধভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার উদ্বেগের ঘটনা। এর ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ভয়াবহ পরিণতি হবে।"
কতটা ভয়ংকর সাদা ফসফরাস?
সাদা ফসফরাস একটি রাসায়নিক পদার্থ যা কামানের গোলা, বোমা এবং রকেটে ব্যবহৃত হয়। অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে এটি নিমেষে জ্বলে ওঠে। ঘরবাড়ি, কৃষিখেত এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় ছুড়ে মারলে মুহূর্তে সেই সব পুড়ে খাক হয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, জনবহুল এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার অবৈধ। বেসামরিক এলাকায় সাদা ফসফরাস ব্যবহার অপরাধের মধ্যে পড়ে। এর পরেও ইজরায়েলের হোয়াইট ফসফরাস ব্যবহারে নেতানিয়াহুর নিষ্ঠুর যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু'হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।
