সাত মাস ধরে বাবার কোনও খোঁজ নেই। দিনকয়েক আগে সাক্ষাৎকার দিতে এমনটাই জানিয়েছিলেন ইমরান খানের দুই পুত্র কাশিম এবং সুলেমান। তারপরই বিস্ফোরক দাবি করলেন এক পাক সাংবাদিক। ওয়াহাজাত সইদ খান নামে ওই সাংবাদিকের দাবি, ইমরান আর ইহজগতে নেই। তিন বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বারবার প্রশ্ন উঠেছে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে। তাঁর মৃত্যু নিয়েও বেশ কয়েকবার জল্পনা ছড়িয়েছে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ওয়াহাজাত দাবি করেছেন, পাক সেনার হেডকোয়ার্টারের উচ্চ আধিকারিকদের থেকে খবর সংগ্রহ করেছেন তিনি। ইমরান প্রসঙ্গে অন্তত তিনজন উচ্চ আধিকারিককে প্রশ্ন করেছেন। তাঁর কথায়, রাওয়ালপিণ্ডিতে বসে থাকা মানে দেশের সমস্ত প্রান্তের খবর রাখা। ইমরান প্রসঙ্গে তিনজন আধিকারিক তিনরকম মন্তব্য করেছেন বলে মত ওই সাংবাদিকের। ওয়াহাজাত বলছেন, "ব্যাপারটা খুবই গুরুতর। আশা করি এই কথাটা সত্যি হবে না। ওই তিন আধিকারিক মনে করছেন, ইমরান খান (Imran Khan) আমাদের মধ্যে আর নেই। তাঁরা যদিও চোখে কিছু দেখেননি, কিন্তু খবর শুনেছেন, তার ভিত্তিতেই বলছেন যে ইমরান আর বেঁচে নেই।"
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ইমরানের জেলযাত্রা তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। সেদিনই একটি মার্কিন সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ইমরানের দুই পুত্র বলেন, "বাবার কোনও খবর জানি না আমরা। কারণ পরিবার, ডাক্তার, আইনজীবী কারোর সঙ্গেই বাবাকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।" একই মত ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফেরও। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার জন্যও সরব হয়েছে দল। তাদের মতে, নানা সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান। কিন্তু সেসব সমাধানে মন না দিয়ে ইমরানকে জেলে রাখতে বেশি ব্যস্ত পাক সরকার।
ইমরানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিরাট মিছিলের ডাক দিয়েছে পিটিআই। সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে শুরু হবে মিছিল। তারপর আদিয়ালা জেলের দিকে এগোবেন। তার আগে গোটা পাকিস্তানজুড়ে লং মার্চের পরিকল্পনাও রয়েছে। পিটিআইয়ের হুঁশিয়ারি, অন্তত ২০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে এই কর্মসূচিতে। ইমরানের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ এবং মুক্তির দাবির পাশাপাশি পাকিস্তানের সার্বিক ইস্যু নিয়েও সুর চড়াবেন আমজনতা।
