ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ভারত-সহ ১৬টি দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা। এবার কোন কারণে ক্ষেপে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের অভিযোগ, তারা নিয়ম না মেনে বাণিজ্য করেছেন। বুধবার মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের আধিকারিক জেমিসন গ্রির জানান, সে দেশের আইন মেনে অভিযুক্ত দেশগুলির বিরুদ্ধে তদন্তপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশেগুলির উপর বাড়তি শুল্ক চাপানো হতে পারে।
হোয়াইট হাউস বেআইনি বাণিজ্যের অভিযোগে ১৬টি দেশের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে ভারত ছাড়াও রয়েছে চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জেমিসন গ্রির জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন সুইৎজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে। নিজেদের বাণিজ্যিক সঙ্গী-সহ অন্য দেশগুলির বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আমেরিকার?
ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে, ১৬টি দেশ ঘরোয়ো এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিহীন ভাবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি দেশ তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে অল্প দামে বিপুল পরিমাণ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ। একই ধরনের অবিযোগে আরও ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর কথা ভাবছে আমেরিকা। গ্রির জানান, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়ম না-মেনে বাণিজ্য করা বন্ধ করতে চান। সে ক্ষেত্রে তিনি আবার শুল্ক চাপাতে পারেন এই (তালিকাভক্ত) দেশগুলির উপরে।”
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যুদ্ধের বাজারে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এমনিতেই টালামাটাল। অধিকাংশ দেশ কমবেশি অস্বস্তিতে পড়েছে। এই অবস্থায় নয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শত্রু বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। যদিও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একাধিক সুতোয় বাঁধা দেশগুলি কীভাবে মার্কিন শুল্কের চাপ মোকাবিলা করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
