বিশ্বের তৈল ধমনী হরমুজে এবার মার্কিন হানা। পারস্য উপসাগরের এই খাঁড়িতে মাইন বিছানোর চেষ্টার অভিযোগে ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংসের দাবি আমেরিকার। ইরানের নৌযান ধ্বংসের এক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন সেনার তরফে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। হামলার সাফল্য ব্যাখ্যা করে সোশাল মিডিয়ায় বার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনও বিস্ফোরক বিছিয়ে রাখা নেই।
প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে হরমুজ থেকে কোনও তেলবাহী জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের বাহিনী আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এক লিটার তেলও পশ্চিম এশিয়ার বাইরে যাবে না। পালটা আমেরিকা জানিয়েছে, হরমুজ বন্ধ করলে ভয়ংকর হামলার মুখে পড়তে হবে ইরানকে। এই হুমকি হুঁশিয়ারির মাঝেই ইরান জানিয়েছিল হরমুজে মোতায়েন করা হয়েছে মাইন বোঝাই নৌযান। মঙ্গলবার তেমনই ১৬টি নৌযানে হামলা চালান হয়েছে বলে দাবি করেছে আমেরিকা।
মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে সেই হামলার ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, 'মার্কিন সেনা গত ১০ মার্চ ইরানের ১৬টি নৌযান-সহ আরও বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলিকে ধ্বংস করেছে। এগুলি হরমুজে মাইন বিছানোর চেষ্টা করছিল।' হামলার ৩৪ সেকেন্ডের যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে। জাহাজ-সহ বন্দরে নোঙর করা একাধিক নৌকার উপর হামলা চালানো হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, কিছুদিন আগে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে যেভাবে একের পর এক 'মাদক বোঝাই নৌযানে' হামলা চালিয়ে ছিল আমেরিকা, এখানেও সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলার পর সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, 'যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিছিয়ে থাকে তবে বলব দ্রুত যেন তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অঞ্চল তেল পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ পথ। যদি ইরান মাইন না সরায় তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।'
