পশ্চিম এশিয়া সংকটের মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সফরে বিরাট উপহার পেল ভারত। শুক্রবার আমিরশাহীতে পা রেখে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাইয়ানের সঙ্গে দুটি বড় চুক্তি সাক্ষর করলেন মোদি। এই চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজি সরবরাহ করবে আমিরশাহী। পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়েও মউ স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। এছাড়াও প্রতিরক্ষা খাতেও চুক্তি হয়েছে ভারত ও আমিরশাহীর মধ্যে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মোট ৫টি দেশে যাচ্ছেন মোদি। শুক্রবার আমিরশাহীর আকাশে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিমান প্রবেশ করতেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। রীতিমতো এসকোর্ট করে প্রধানমন্ত্রীর বিমানটিকে নিয়ে আসা হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ আবু ধাবি বিমানবন্দরে অবতরণ করে মোদির বিমান। সেখানে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট সঙ্গে সাক্ষাৎ শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাইয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ বৈঠক করেন মোদি। সেখানেই জ্বালানি সংক্রান্ত দুটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার প্রথমটি ছিল, ভারতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে আমিরশাহী। যুদ্ধের বাজারে এই এলপিজি সংকটে ধুঁকছে ভারত। সংকট মোকাবিলায় আমিরশাহীর সঙ্গে ভারতের এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ভারতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে আমিরশাহী। তেল মজুত ও জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয় তার খেয়াল রাখবে আমিরশাহী।
এরপর আমিরশাহীর সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়েও মউ সই হয়েছে ভারতের। এর মাধ্যমে দেশে তেল মজুত ও জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয় তার খেয়াল রাখবে আমিরশাহী। যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সংকট এবং হঠাৎ তেলের দামবৃদ্ধির মতো বিষয় সামলাতে অপরিশোধিত তেল মজুত করে রাখে ভারত। এই ক্ষেত্রে এবার দিল্লিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে আমিরশাহী। এর পাশাপাশি গুজরাটের ভাদিনারায় শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার তৈরি নিয়েও চুক্তি হয়েছে দুই দেশের। চুক্তি সই হয়েছে সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটের মুখে পড়েছে ভারত। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশবাসীকে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, বিদেশি মুদ্রা বাঁচানোর লক্ষ্যে বিদেশ ভ্রমণ ও সোনা কেনা বন্ধ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩ টাকা করে বেড়েছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। সিএনজির দামও ২ টাকা করে বেড়েছে।
