দু'মাস আগেই হাল ছেড়েছে জার্মানি। এবার ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্প ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম (এফসিএএস)-এ যোগ দিতে চলেছে ভারত! তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুরোটাই আলোচনাস্তরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ষষ্ঠ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান তৈরি হয়ে যেতে পারে।
এফসিএএস শুধু একটি যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প নয়। এর মূল লক্ষ্য এমন একটি ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো তৈরি করা, যেখানে ষষ্ঠ প্রজন্মের চালকহীন যুদ্ধবিমানের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ড্রোন একসঙ্গে কাজ করবে। এর ফলে আরও সুনিপুণভাবে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যাবে। গত জুন মাসে ফ্রান্সের নিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যা এখন একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, যৌথ উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার। শুধু তাই নয়, আলোচনা হয় পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিগুলি নিয়েও।
২০১৭ সালে ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ উদ্যোগে এফসিএএস প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। পরে স্পেনও তাতে যোগ দেয়। কিন্তু গোটা প্রকল্পে কার নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে, তা নিয়ে ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশন এবং জার্মানির এয়ারবাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। কাজের ভাগ, প্রযুক্তি ও নেতৃত্ব নিয়ে সেই সংঘাত শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুনে এই প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যায় জার্মানি। এখানেই ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে। ভারত ইতিমধ্যেই নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির পথে এগোচ্ছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চালকহীন বিমানের গুরুত্ব বাড়ায় ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তিতেও প্রবেশ করতে চাইছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, চালকহীন যুদ্ধবিমান তৈরিতে ফ্রান্সও তাকিয়ে আছে ভারতের দিকে।
