সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান থেকে তেল আমদানি নিয়ে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিল ভারত। ইরানের উপর জারি করা একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানে না ভারত। এমনটাই সাফ জানালেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় সুধীর। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রসংঘের জারি করা নিষেধাজ্ঞা ছাড়া অন্য কোনও দেশের একতরফা পদক্ষেপ বৈধ বলে মনে করে না ভারত।
[পালটা জবাব, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে একহাত নিল ভারত]
ইরাক ও সৌদি আরবের পর ইরান থেকেই সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে ভারত। ফলে মার্কিন দাবি যে মেনে নেওয়া হবে না তা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, ৪ নভেম্বরের মধ্যে ভারত, চিন-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ইরান থেকে তেল তথা পেট্রোপণ্য আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা। না হলে ইরানের সঙ্গে ভারত, চিনের সব লেনদেন অবৈধ বলে ঘোষণা করবে আমেরিকা। সেই লেনদেনগুলিও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। এই বিষয়ে এখনও কোনও বয়ান দেয়নি ভারতীয় সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ইন্ডিয়ান অয়েল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার এই পদক্ষেপে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। কারণ সৌদি আরব, ইরাকের পর ইরান হল ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ। মার্কিন হুঁশিয়ারি মেনে চলার ক্ষেত্রে চিনের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু ভারতের রয়েছে। ভারত হল আমেরিকার সামরিক ও রাজনৈতিক জোটসঙ্গী। আর্থিক ও বাণিজ্যিক বোঝাপড়াও রয়েছে। অন্যদিকে, ধারে তুলনামূলক কম দামে তেল পেতে ভারতের বড় ভরসা বন্ধু দেশ ইরান। এই অবস্থায় নয়াদিল্লির ভরসা ভারসাম্যের কূটনীতি। কিন্তু এবার হয়তো মার্কিন চাপে নতিস্বীকার করতেই হবে ভারতকে।
এদিকে, ভারতের সঙ্গে টু প্লাস টু আলোচনা প্রক্রিয়া বাতিল করল আমেরিকা। বুধবার রাতে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে ফোন করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিস দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, কিছু বিশেষ অসুবিধার জন্য ভারতের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা প্রক্রিয়া এখন তাঁরা বাতিল করছেন। সামনের সপ্তাহেই আমেরিকা সফরে যাওয়ার কথা ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের। তাঁরা মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষা সচিব জেমস ম্যাটিসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন বলে সফরসূচি ঠিক হয়েছিল।
[জানেন, এই শহরগুলিতে থাকার জন্য আর্থিক সুবিধা দেয় সরকার?]
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে চলতি বাণিজ্য যুদ্ধ বড় আকার নেওয়ায় এবং রাষ্ট্রসংঘের কিছু রিপোর্ট ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় ভারত-আমেরিকা সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। ইরানের তেল কেনা নিয়েও ভারতের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে আমেরিকার। চলতি মতবিরোধের জেরে শেষ মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করল আমেরিকা। বুধবার ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যেখানে ভারত ও চিনের সঙ্গে চলা বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বেশি করে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছি, তখন ভারতও ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছে। এতে আমেরিকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।” সব মিলিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক যে নয়া মোড় নিতে চলেছে তা স্পষ্ট।
The post ইরানী তেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, আমেরিকাকে কড়া বার্তা ভারতের appeared first on Sangbad Pratidin.
