মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েও অনড় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘সাময়িক শুল্ক’ ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তুলোধনা করলেন সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নীল কাটিয়াল।
তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ১৫ শতাংশ শুল্ক সংক্রান্ত আইন - ধারা ১২২-এর উপর নির্ভর করা কঠিন। কারণ, একই বিষয়ে আমেরিকার বিচার বিভাগ আদালতে ভিন্ন যুক্তি দিয়েছে। ট্রাম্প যে জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে। কিন্তু মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দিয়েছে, ধারা ১২২-এর স্পষ্ট প্রয়োগ এখানে দেখা যায় না। কারণ, এই আইন মূলত ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস ঘাটতির মতো ভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতি এবং ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস ঘাটতি ধারণাগতভাবে ভিন্ন বিষয়।’ এরপরই তিনি লেখেন, ‘যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এতই শুল্কপ্রেম থাকে, তাহলে তাঁর উচিত মার্কিন কংগ্রেসে যাওয়া। যদি তাঁর শুল্ক এত ভালো ধারণা হয়, তাহলে মার্কিন কংগ্রেসকে রাজি করাতে তাঁর কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ট্রাম্পকে সংবিধান মেনে চলতে হবে।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের চাপানো বাণিজ্য শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে খারিজ করে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ন’জন বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর্যালোচনা করে। ভোটাভুটি হলে ফল দাঁড়ায় ৬-৩। অর্থাৎ শুল্কনীতির বিরুদ্ধেই বেশি ভোট পড়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানির উপর বিশাল অঙ্কের শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি যা করেছেন, তা নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’
