আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানের বায়ুসেনা ঘাঁটি ব্যবহার করেছে ইরান! প্রায় দেড়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আপাতত দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছে পাকিস্তান। এহেন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক রিপোর্ট ফাঁস করল একটি মার্কিন সংবাদসংস্থা। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের একটি বায়ুসেনা ঘাঁটি ব্যবহার করেছে ইরান। একাধিক ইরানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল ওই ঘাঁটিতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সিবিএস নিউজের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে সাফ জানানো হয়, যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। কিন্তু সেই ঘোষণার পরেই নাকি রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধবিমান সরিয়ে ফেলেছে ইরান। তার মধ্যে রয়েছে আরসি ১৩০ রিকনাইসেন্স বিমান, সি ১৩০ হারকিউলিস বিমানও। উল্লেখ্য, গতবছর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় বিমানহানায় এই নূর খান ঘাঁটি একেবারে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। তবে আবার সেটি মেরামত করা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আদৌ নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে ইসলামাবাদ? প্রশ্ন তোলেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই।
মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, ইরানের আশঙ্কা ছিল যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও আমেরিকা আক্রমণ করতে পারে। মার্কিন হামলা থেকে বাঁচানোর জন্যই কয়েকটি বিমান পাক ঘাঁটিতে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ওই রিপোর্টে। এমনকি আফগানিস্তানেও কয়েকটি ইরানি বিমান রাখা হয়েছে বলে খবর ছড়ায়। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আদৌ নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে ইসলামাবাদ? প্রশ্ন তোলেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই। যদিও ওয়াশিংটনের তরফ থেকে সরকারিভাবে এই নিয়ে কিছু বলা হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষবিরতি আপাতত বিশ বাঁও জলে। মাঝে ১৪ দফা শান্তিপ্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে আমেরিকা। প্রস্তাব খারিজ করায় আমেরিকাকে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, আমেরিকার যে কোনও নতুন হামলার পালটা জবাব দিতে তারা পিছপা হবে না। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ বরদাস্ত করবে না বলেও জানিয়েছে তারা। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হবে? ট্রাম্প যদিও এখনও হামলার কথা জানাননি। কিন্তু পালটা কোনও প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি ওয়াশিংটনের তরফে।
