মার্কিন অহং গুঁড়িয়ে একইদিনে তাদের দুই যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ইরান। দুই দশক পর (২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ) শত্রুর হামলায় ভূপতিত হয়েছে আমেরিকার যুদ্ধবিমান। ট্রাম্পের দম্ভ মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার এই দুঃসাহস যার দৌলতে সফল হয়েছে তা হল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'মাজিদ সিস্টেম'। তবে আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের এই অভিযান মনে করাচ্ছে ১৯৯৩ সালে সোমালিয়ায় 'ব্যাটেল অফ মোগাদিশু'কে। সেখানেও আমেরিকার দম্ভ কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছিল মহম্মদ ফারাহ আদিদ-এর যোদ্ধারা।
সর্বশক্তিমান হিসেবে আমেরিকার গর্ব থাকলেও ইতিহাস বলছে, অতীতে সে গর্ব চুর্ণ হয়েছে একাধিকবার। তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু। সোমালি কংগ্রেসের তরফে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ সিয়াদ বেরেকক উৎখাতকে কেন্দ্র করে দুইভাগে বিভক্ত হয় দেশটি। নয়া নেতৃত্বের জন্য সম্মুখ সমরে নামে আলি মাহদি মহম্মদ ও মহম্মদ ফারাহ আদিদ। গৃহযুদ্ধ শুরু হয় সোমালিয়ায়। সেখানেই ঢুকে পড়ে আমেরিকা। আদিদ গোষ্ঠীর কিছু নেতৃত্বকে ধরতে মোগাদিশু শহরে অভিযান চালায় মার্কিন ডেল্টা ফোর্স ও ৭৫ রেঞ্জার রেজিমেন্ট। ৩ অক্টোবর চলে এই অভিযান।
মোগাদিশুতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার 'ইউএইচ ব্ল্যাক হক' প্রবেশ করতেই রকেট লঞ্চার ছোড়ে শত্রুপক্ষ। এর জেরে দুটি কপ্টার মাটিতে আছড়ে পড়ে। আরও ৩টি কপ্টার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত সেনাদের উদ্ধার করতে গিয়ে শহরে আটকে পড়ে মার্কিন যোদ্ধারা। সারারাত ধরে চলে গুলির লড়াই। আদিদ গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের হাতে মৃত্যু হয় ১৮ জন মার্কিন সেনার। এই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় আমেরিকাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে এর কিছুদিন পর সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য হয় আমেরিকা।
এবার ইরানে কার্যত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখল বিশ্ব। শত্রুপক্ষের সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করে গর্বে বুক বাজাতে শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক সেই সময় তেহরানের হামলায় ভেঙে পড়ল একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ও একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান। বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও নিখোঁজ এক পাইলট। তাঁর সন্ধানেও গিয়েছিল ২ ব্ল্যাক হক কপ্টার। ইরানি সেনার ভয়ংকর মার খেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। শোনা যাচ্ছে, ইরানে নাকি ভেঙে পড়েছে একটি কপ্টারও। এহেন পরিস্থিতিতে পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমেরিকাকে আরও কত কাঠ-খড় পোড়াতে হবে সেটাই এখন দেখার।
