shono
Advertisement
Pakistan

ঋণে ডুবে পাকিস্তান, যুদ্ধের আবহে এপ্রিলেই ৩৫০ কোটি ডলার ফেরত চাইল আমিরশাহী

রিপোর্ট বলছে, এই ঋণ পরিশোধ করলে আর্থিকভাবে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা হবে পাকিস্তানের। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ২১.৭৯ বিলিয়ন ডলার।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 05:07 PM Apr 04, 2026Updated: 05:16 PM Apr 04, 2026

ইরান যুদ্ধের জেরে নাজেহাল অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে দেওয়া ৩৫০ কোটি ডলার ঋণের অর্থ ফেরত চাইল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমে মান রক্ষায় এবার ভিখিরি দশা শাহবাজদের। বেহাল অবস্থাতেও এপ্রিল মাসেই টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। তবে রিপোর্ট বলছে টাকা ফেরত দিলে পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার ফাঁকা হয়ে যাবে। এরই মাঝে পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভে ফুঁসছে সেখানকার ক্ষুব্ধ জনতা।

Advertisement

পাক সংবাদমাধ্যম 'ডন'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের উর্ধ্বতন সরকারি কর্তা জানান, জাতীয় মর্যাদা রক্ষার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে 'আবুধাবি ফান্ড ফর ডেভলপমেন্টে'র মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানকে। যত দ্রুত সম্ভব এই ঋণ পরিশোধ করতে বলেছিল আমিরশাহী। ওই আধিকারিক জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই অর্থ ফেরানো হবে। জাতীয় মর্যাদার কোনওভাবেই আপস করবে না পাকিস্তান। জানা যাচ্ছে, এপ্রিলেই ৩ কিস্তিতে ফেরত দেওয়া হবে টাকা। ১১ এপ্রিল প্রথম কিস্তিতে দেওয়া হবে ৪৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪৫ কোটি ডলার। ১৭ এপ্রিল দ্বিতীয় কিস্তিতে দেওয়া হবে ২ বিলিয়ন অর্থাৎ ২০০ কোটি ডলার এবং ২৩ এপ্রিল দেওয়া হবে বাকি ১ বিলিয়ন অর্থাৎ ১০০ কোটি ডলার।

১১ এপ্রিল প্রথম কিস্তিতে দেওয়া হবে ৪৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪৫ কোটি ডলার। ১৭ এপ্রিল দ্বিতীয় কিস্তিতে দেওয়া হবে ২ বিলিয়ন অর্থাৎ ২০০ কোটি ডলার এবং ২৩ এপ্রিল দেওয়া হবে বাকি ১ বিলিয়ন অর্থাৎ ১০০ কোটি ডলার।

এখানেই শেষ নয় রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান এই মাসে ৪.৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ শোধ করবে। যার মধ্যে রয়েছে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের একটি ইউরো বন্ডও। উল্লেখ্য, দীর্ঘ বছর ধরে আরব দেশগুলির থেকে অর্থ ধার করে আসছে পাকিস্তান। ২০১৮ সালেও তারা আমিরশাহীর থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছর তারা ১৩০ মিলিয়ন ডলার সুদও দিচ্ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমিরশাহী এই ঋণ শোধের জন্য চাপ বাড়ায় পাকিস্তানের উপর। বাধ্য হয়েই এবার টাকা শোধ দিতে চলেছে পাকিস্তান।

তবে পাকিস্তানের উপর আমিরশাহীর তরফে চাপ বাড়ানোর নেপথ্যে বেশকিছু কারণও রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যুদ্ধের জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন ইরানের বিরুদ্ধে। সেখানে মধ্যস্থতা করলেও পাকিস্তান ইরানের পাশেই দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের জেরে স্পষ্ট ভাষায় তারা জানিয়েছে, ইরানের সরাসরি বিরোধিতা করবে না ইসলামাবাদ। যার জেরেই পাকিস্তানের উপর কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ আমিরশাহী-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি। তবে শোধ দিলেই তো আর হল না, রিপোর্ট বলছে, এই ঋণ পরিশোধ করলে আর্থিকভাবে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা হবে পাকিস্তানের। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ২১.৭৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান (এসবিপি)-এর কাছে রয়েছে ১৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে রয়েছে ৫.৪১ বিলিয়ন ডলার। ঋণ শোধের পর মোট রিজার্ভ কমে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। অর্তাৎ ১৮ শতাংশ রিজার্ভ কমে যাবে। যা দেশটিকে আর্থিকভাবে বিপাকে ফেলবে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement