পাঁচদিন ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের উপর লাগাতার আক্রমণ করেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল (Israel)। পালটা একের পর এক দেশের উপর হামলা চালাচ্ছে ইরান (Iran)। এবার সেই যুদ্ধের (War) আগুন এসে পড়বে ভারতের উপরেও? দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এবার কি সেই সম্পর্ক ভুলে গিয়ে ভারতের মাটিতেও আক্রমণ শানাবে তেহরান? এমন সম্ভাবনাই উঁকি দিচ্ছে।
শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ইরানের উপর আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলা। তারপরেই ইরান সমর্থিত লেবাননের হেজবোল্লা জঙ্গিগোষ্ঠী হামলা শুরু করে ইজরায়েলের উপর। পালটা দেয় তেল আভিভও। এহেন পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের তরফে ইরানকে ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়। ইজরায়েলি সেনার মুখপাত্র আভিশে আদারি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেবাননে থাকা ইরানি রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মীদের দেশ ছাড়তে হবে। সেটা না হলে হামলা হবে দূতাবাসের উপর।
সেই হুঁশিয়ারির পালটা দিয়ে মুখ খুলেছে ইরানের সেনা। বুধবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি সাফ জানিয়ে দেন, ইজরায়েল যদি লেবাননে থাকা ইরানের কূটনৈতিক ভবনে হামলা করে তাহলে বড়সড় ফল ভুগতে হবে। তিনি বলেন, "ইজরায়েল হুমকি দিয়েছে যে ওরা লেবাননে আমাদের দূতাবাসে হামলা করবে। যদি সেটা হয়, তাহলে বিশ্বের সমস্ত দেশের ইজরায়েলি দূতাবাস আমাদের নিশানায় থাকবে। বিশ্বজুড়ে আমরা হামলা করব।"
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে ভারতে রয়েছে ইজরায়েলের দূতাবাস। নয়াদিল্লির এই দূতাবাসে ২০২৪ থেকে ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত হিসাবে রয়েছেন রুভেন আজার। ৫১ থেকে ২০০ কর্মী রয়েছে এই দূতাবাসে। সেখানেও কি হামলা চালাবে ইরান? বাড়ছে আশঙ্কা। যদিও নিজের বিবৃতিতে শেকারচি বলেছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল ছাড়া কোনও দেশের প্রতি ইরানের শত্রুতা নেই। কিন্তু ইজরায়েলকে শায়েস্তা করতে ভারতের বুকে হামলা চালানো হতে পারে, নাম না করে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বুধবারই ভারত মহাসাগরের বুকে শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএনএস ডেনা’-এর উপর হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। জাহাজে থাকা ৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ডুবন্ত রণতরী থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা। কিন্তু জাহাজে থাকা ১৪৮ জনের খোঁজ মেলেনি। তারপরেই কি আরও বেশি আগ্রাসী নিতে চলেছে তেহরান?
