ইরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষে প্রস্তাব পেশ করেছিল বিরোধী ডেমোক্র্য়াটরা। যদিও ভোটাভুটিতে জয় হল রিপাবলিকান তথা ট্রাম্পেরই। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ৪৭টি, বিপক্ষে ৫৩টি। অর্থাৎ, মাত্র ৬ ভোটে জিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (Iran War) চালিয়ে যাওয়ার ‘ছাড়পত্র’ পেয়ে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর পরেই ট্রাম্প দাবি করলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধে আমেরিকা (US) এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশের সেনাবাহিনীকে প্রশংসায় ভরালেন তিনি। নিজের সেনাকে ১০-এ ১৫ দিয়েছেন ট্রাম্প।
সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা যুদ্ধবাজ, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরান-নীতিকে সমর্থন করছেন না। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেকেও ইরানের হামলার সিদ্ধান্তকে মানতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে এড়িয়ে প্রতি দিন ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। সেনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রায় সকলেই (যুদ্ধবিরোধী) প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যেরা বিপক্ষে ভোট দেন। এর ফলেই ৪৭-৫৩ ভোটে জিতে যান ট্রাম্প। তবে বেশ কয়েক জন রিপাবলিকান সদস্য জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তাঁরা বিকল্প কিছু ভাববেন।
সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, সাধারণ নাগরিকদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরান-নীতিকে সমর্থন করছেন না।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ইরানে যৌথ ভাবে হামলা চালায় আমেরিকা (US Strikes Iran) এবং ইজরায়েল। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ একাধিক শীর্ষনেতার। এই আবহে একটি সমীক্ষা করেছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। রবিবার পর্যন্ত এই অনলাইন সমীক্ষা চালানো হয়। অংশ নেন আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তের ১,২৮২ জন। তাতে দেখা গিয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ২৭ শতাংশ ইরানে মার্কিন হামলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ। আর ৩০ শতাংশ নীরব ছিলেন।
যদিও সেনেটে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলতেই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রশংসায় ভরিয়েছেন মার্কিন সেনা বাহিনীকে। বুধবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা ভালো কাজ করছি। কেউ কেউ বলছেন ১০-এ আপনি কত দেবেন? আমি বলছি ওই ১৫-র মতো।”
