ইজরায়েলের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ডিমোনা লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে গোটা শহর। তবে চমকপ্রদ বিষয় হল, ইজরায়েলের এই ডিমোনা শহরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ভারত। এই শহরের অলিতেগলিতে মিশে রয়েছে ভারতের পাপড়ি চাট, ভেলপুরির গন্ধ, কলকাতার নানা সংস্কৃতি। যা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে।
ডিমোনা শহরের প্রধান পরিচয় এটি ইজরায়েলের প্রধান পরমাণু ঘাঁটি। শোনা যায়, অঘোষিত পরমাণু শক্তিধর ইজরায়েলের যাবতীয় পরমাণু বোমা এখান থেকেই তৈরি হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এই অঞ্চলের উপর থেকে উড়তে দেওয়া হয়না বিমানকেও। তবে এর আরও একটি পরিচয় হল এটি লিটল ইন্ডিয়া বা ছোট ভারত। কারণ এখানে বসবাসকারী ইহুদিদের ৩০ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। রিপোর্ট বলছে, ৭৫০০ ভারতীয় বংশোদ্ভূতের বাস এখানে। ফলে এই শহরের অলিতেগলিতে জিলিপি, পাপড়ি চাট, ভেলপুরির সুবাস। কোথাও বাংলার সংস্কৃতি, তো কোথাও মারাঠি ভাষার কথোপকথন। নিয়ম করে এখানে প্রতিবছর নভেম্বরে আয়োজিত হয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের উৎসব।
এই শহরের অলিতেগলিতে জিলিপি, পাপড়ি চাট, ভেলপুরির সুবাস। কোথাও বাংলার সংস্কৃতি, তো কোথাও মারাঠি ভাষার কথোপকথন।
জানা যায়, ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল দেশ তৈরি হওয়ার পর পাঁচ ও ছয়ের দশকে দলে দলে ইহুদিরা ভারত ছেড়ে ইজরায়েলে চলে যান। ভারতের মোট তিন জায়গা থেকে ইহুদিরা ওই শহরে ঘাঁটি গাড়েন। যার বড় অংশ ছিল বেনে ইজরায়েলি। মহারাষ্ট্রের কোঙ্কণ ও মুম্বাই থেকে ডিমোনা গিয়েছিলেন এরা। এঁদের ভাষা মারাঠি। দ্বিতীয় হল কোচিন ইহুদি। কেরালা থেকে ইজরায়েলের যান এরা। আজও এরা কেরলের জনপ্রিয় ওনাম উৎসব পালন করেন। এরপর রয়েছে বাগদাদি ইহুদি। এরা ইরাকের বংশোদ্ভূত হলেও ব্রিটিশ আমলে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। পরে ইজরায়েল চলে যান। সঙ্গে নিয়ে যান কলকাতার সংস্কৃতি ও এখানকার জনপ্রিয় সব খাবার। আজও কলকাতার ধাঁচে দীপাবলি উৎসব পালন করেন এরা। এরপরও মিজোরাম ও মণিপুর থেকে বনেই মেনাশে সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইজরায়েলে চলে যান। এরাও নিজেদের ইজরায়েলের হারিয়ে যাওয়া ১০টি উপজাতির বংশধর বলে দাবি করেন।
বাগদাদি ইহুদিরা ইরাকের বংশোদ্ভূত হলেও ব্রিটিশ আমলে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। পরে ইজরায়েল চলে যান। সঙ্গে নিয়ে যান বাংলার সংস্কৃতি ও এখানকার জনপ্রিয় সব খাবার।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানের নাতনাজ পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। এরই বদলা নিতে রাতে ইরান হামলা চালায় ইজরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র ডিমোনাতে। জানা যাচ্ছে, এই হামলায় অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন। দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের তরফে জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের জেরে বর্তমানে এখানকার মানুষ বাঙ্কারে রয়েছে। যার ফলে বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। কিন্তু এই হামলায় আমাদের ঘরবাড়ি সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
