হরমুজ প্রণালীতে ইরানি হামলায় ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু। ঘটনার পর এই নিয়ে মুখ খুলল তেহরান। তাদের দাবি, একাধিকবার ওই জাহাজকে সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও একেবারে চুপিচুপি হরমুজ পেরনোর চেষ্টা করছিল। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখেই দু'টি জাহাজে হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস। উল্লেখ্য, গত তিনদিন ধরে ইরানের নানা স্থানে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন ফৌজ।
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়, মোম্বাসা এবং আল বাহিয়া নামে দু'টি জাহাজের উপর হামলা চালিয়েছে ইরান। ওমান উপকূলের কাছে ওই হামলায় আহত হয়েছেন মোট আটজন, তার মধ্যে ৬জনই ভারতীয় নাবিক। মোম্বাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলেই জানিয়েছে আবু ধাবি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পালটা মারের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।
ইরানের বিবৃতিতে অবশ্য ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাদের মতে, ন্যাভিগেশন বন্ধ করে দিয়ে বিপজ্জনক পথে হরমুজ পার হচ্ছিল দু'টি জাহাজ। ইরান ফৌজ তাদের একাধিকবার সতর্ক করেছে, তা সত্ত্বেও জাহাজদু'টি এগোচ্ছিল। নির্দেশ না মানার দরুণ জাহাজদু'টিতে হামলা হয়েছে। ইরান ফৌজ আরও জানিয়েছে, বেআইনি পথে হরমুজ পার করতে ইন্ধন যোগাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যদি এমনটা চলতে থাকে তাহলে ক্ষতির বহর বাড়বে। উল্লেখ্য, প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য শেষ হতেই ফের শুরু হয়েছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ।
প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগেই ওমান উপকূলে বাণিজ্যতরীতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয় সেই আক্রমণে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। ঘটনার কড়া নিন্দা করেন তিনি। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফে পালটা একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, রুবিও জয়শংকরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই জলপথে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী অবরোধ জারি করেছে। সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজকে আমেরিকার নির্দেশাবলী মানতে হবে। এবার কি মার্কিন 'নির্দেশ' মানতে গিয়েই প্রাণ দিতে হল আরেক ভারতীয়কে?
