ফের শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ! আমেরিকার হামলার ‘বদলা’ নিল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ৮৫টি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে তেহরান। এমনটাই দাবি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি)। সূত্রের খবর, তেহরানের হামলার পরই বাহরিন, কুয়েতে বেজে ওঠে সাইরেন। তেহরানের এই ‘আগ্রাসনে’র কড়া নিন্দা করেছেন আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুট।
শান্তিচুক্তি ভেঙে হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সোমবার পরপর তিনটি জাহাজে তারা গোলাবর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। এর জেরেই ক্ষুব্ধ আমেরিকা ধারাবাহিক আক্রমণ শুরু করে ইরানে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সিরিক, কেশম, বন্দর আব্বাসের মতো এলাকায় হামলা চালায় মার্কিন সেনা। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা ইরানের প্রায় ৮০টি স্থানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে তেহরান।
আইআরজিসি-র দাবি, কুয়েত এবং বাহিরিনে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। নিশানা করা হয় মোট ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা। শুধু তাই নয়, প্রত্যাঘাতে আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোটা অভিযানকে ইরান 'প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া' বলে অভিহিত করেছে। তেহরানের বক্তব্য, শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আইআরজিসি-র অভিযোগ, ইরানের নিহত প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্যই ওয়াশিংটন এই হামলা চালিয়েছে।
ইরানের হামলার কড়া নিন্দা করেছেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট। বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে আমেরিকাকে সমর্থন করে তিনি বলেন, "যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত জরুরি ছিল। এটিতে যৌক্তিকা ছিল।"
